নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের হামলায় ছয় জন গুরুতর আহত হয়েছেন। এদের একজনকে আইসিইউতে ভর্তি করতে হয়েছে এবং তিনজন চিকিৎসা নিচ্ছেন জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালে (পঙ্গু হাসপাতাল)।
বুধবার দিবাগত রাত ২টার দিকে জাফরাবাদ এলাকার ৩৬১/২ নম্বর বাসায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসী বলছে, প্রথমে ‘ডাকাত সন্দেহে’ কয়েকজনকে আটক করা হলে পরে কিশোর গ্যাং এসে এলোপাতাড়ি কোপায়।
ভুক্তভোগীদের এক আত্মীয়া ফারজানা আক্তার ইতি বলেন, তার মামার বাসায় চারজন ‘ডাকাত’ ঢোকে। আশপাশের আত্মীয় ও প্রতিবেশীরা একত্রিত হয়ে তাদের মধ্যে তিনজনকে ধরে ফেলেন।
“একজন পালিয়ে গিয়ে ফোন করে আরও ১০–১২ জন কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য ডেকে আনে। তারা রামদা, চাপাতি ও ছুরি নিয়ে এসে আমাদের উপর হামলা করে,” বলেন ফারজানা।
তিনি জানান, গুরুতর জখম অবস্থায় ছয়জনকে রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে একজনকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয় এবং তিনজন ভর্তি হন পঙ্গু হাসপাতালে। দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সময় পুলিশ না আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। “থানা কাছে থাকা সত্ত্বেও ঘণ্টাখানেক ধরে ফোন দিলেও পুলিশ আসেনি। পরে আমি নিজে থানায় গিয়ে জানালে কিছুক্ষণ পর তারা আসে,” অভিযোগ করেন তিনি।
তবে এই ঘটনার ধরন নিয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন মোহাম্মদপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হাফিজুর রহমান।
তিনি বলেন, “এটি ডাকাতির ঘটনা নয়। দুই পক্ষের মধ্যে পূর্ব বিরোধের জের ধরে সংঘর্ষ হয়েছে। এক পক্ষ প্রথমে হামলা করে, পরে অন্য পক্ষ আরও লোক ডেকে এনে পাল্টা আক্রমণ করে।”
তবে কী নিয়ে বিরোধ হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেননি তিনি। “আহতরা হাসপাতালে ভর্তি আছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি,” বলেন হাফিজুর।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে দাপট দেখিয়ে আসছে। বারবার অভিযোগ করেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
