নিজস্ব প্রতিবেদক
২৪ এপ্রিল ২০২৫: কাতার কৌশলগতভাবে তুরস্ক, সোমালিয়া, গাজা এবং এখন বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে বিনিয়োগ করছে, যেন ভারত মহাসাগর জুড়ে ইসলামপন্থী মতাদর্শ প্রচারের জন্য একটি “মিসবাহা’র স্ট্রিং” বা “অসবীহর মালা” গঠন করছে। মাইকেল রুবিনের একটি নিবন্ধে বলা হয়েছে, যেমন চীন তার “স্ট্রিং অফ পার্লস” বা কৌশলগত বন্দরের মাধ্যমে ভারত মহাসাগরে প্রভাব বিস্তার করছে, তেমনি কাতারও তার আর্থিক শক্তি ও কৌশল ব্যবহার করে ইসলামপন্থী মতাদর্শ ছড়িয়ে দিচ্ছে।
মাইকেল রুবিন একজন আমেরিকান বিশ্লেষক, লেখক ও মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ। তিনি আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউট (AEI)-এর সিনিয়র ফেলো এবং জাতীয় নিরাপত্তা, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি ও ইসলামপন্থী আন্দোলন নিয়ে গবেষণা করেন। তিনি “মিডল ইস্ট কোয়ার্টারলি” পত্রিকার সম্পাদক এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে মন্তব্যকারী হিসেবে পরিচিত। রুবিনের লেখায় কাতার, তুরস্ক ও ইরানের মতো দেশগুলোর ভূ-রাজনৈতিক কৌশলের সমালোচনা প্রাধান্য পায়। তিনি ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে পিএইচডি অর্জন করেছেন।
মাইকেল রুবিন বলেন, কাতারের বিনিয়োগের পেছনে স্পষ্ট উদ্দেশ্য রয়েছে। এটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে পুরো দেশ পর্যন্ত অর্থ প্রদান করে, যারা এর ইসলামপন্থী মতাদর্শকে সমর্থন ও স্বাভাবিক করে তুলবে।
তুরস্কে রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগানের উত্থানে কাতার বিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন করেছে, যা তার দলকে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারে সহায়তা করেছে। একইভাবে, সোমালিয়ায় কাতার ও তুরস্ক মিলে দেশটির মধ্যপন্থী ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গিকে ইসলামপন্থী দিকে ঠেলে দিয়েছে।
সোমালিয়ার রাজনীতিতে কাতারের প্রভাব বাড়াতে ফাহাদ ইয়াসিন নামে এক তরুণ আল জাজিরা সাংবাদিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, যিনি কাতার গোয়েন্দা সংস্থার জন্যও কাজ করেছেন।
গাজায় কাতার হামাসের পৃষ্ঠপোষকতা করেছে, যারা ২০০৭ সালে সহিংস অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গাজার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল। এখন কাতার বাংলাদেশের দিকে নজর দিয়েছে, যেখানে ১৭০ মিলিয়নেরও বেশি জনসংখ্যা এবং ভারত মহাসাগরে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান রয়েছে।
গত আগস্টে বাংলাদেশে প্রতিবাদ আন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটে এবং নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেতৃত্বে আসেন। ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষ নীতি থেকে সরে এসে ইসলামপন্থীদের প্রতি নমনীয়তা দেখানো হচ্ছে। তিনি কারাগার থেকে ইসলামপন্থী ও আল কায়েদা-সমর্থিত ব্যক্তিদের মুক্তি দিয়েছেন, এবং ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে ইসলামপন্থী সহিংসতা বেড়েছে, যা ধর্মীয় সংখ্যালঘু, উদারপন্থী ও সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে।
২১ এপ্রিল ২০২৫-এ ইউনূস কাতারে উষ্ণ অভ্যর্থনা পান। পরদিন তিনি কাতার ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন মোজা বিনত নাসেরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, যিনি বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন। এই সহায়তার মাধ্যমে কাতার বাংলাদেশে তার ইসলামপন্থী এজেন্ডা চাপিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে, যেমনটি তারা তুরস্ক ও সোমালিয়ায় করেছে।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, পশ্চিমা বিশ্ব যখন অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মনোযোগী, তখন কাতারের মতো দেশগুলো তাদের আর্থিক শক্তি ব্যবহার করে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ইসলামপন্থী মতাদর্শ ছড়িয়ে দিচ্ছে। বাংলাদেশে কাতারের এই প্রভাব বৃদ্ধি দক্ষিণ এশিয়ার ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ভারসাম্যের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
