আজহারীর মাহফিলকে কেন্দ্র করে নাকাল চট্টলাবাসী

আজহারীর মাহফিলকে কেন্দ্র করে নাকাল চট্টলাবাসী
শেয়ার করুন
নিজস্ব সংবাদদাতা

বিতর্কিত সংগঠন জামায়াতে ইসলামীর অঙ্গসংঠন ইসলামী সমাজ কল্যাণ পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত পাঁচদিনব্যাপী তাফসির মাহফিলকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ সংলগ্ন প্যারেড ময়দান, চকবাজার, চন্দনপুরা হয়ে জামাল খান, উল্টোদিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ এলাকা পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে অসহনীয় যানজটের সৃষ্টি হয়।

চট্টগ্রামের প্যারেড ময়দানে আজ (শুক্রবার) দিবাগত রাত ৮টার দিকে তাফসিরুল কুরআন মাহফিলে বক্তব্য রাখেন মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী।

আজহারীর বয়ান শুনতে সকাল থেকে প্যারেড অভিমুখে রওনা দেন আগ্রহীরা। সেখানে জুমার নামাজে অনেক মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন। প্যারেড ময়দান সংলগ্ন চকবাজার তেলিপট্টি মোড় থেকে দোভাষ অ্যাক্সেস রোড, অলি খাঁ মসজিদ মোড়, গণি বেকারীর মোড়সহ সংশ্লিষ্ট এলাকার জনজীবন স্থবির হয়ে যায়।

দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে স্বেচ্ছাসেবকের কাজ করতে চট্টগ্রামে এসে জড়ো হন ছাত্র শিবিরের কর্মীরা। তারা বিভিন্ন স্থানে রাস্তায় যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন। এতে গণপরিবহন এবং ব্যক্তিগত যানবাহনের মত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজগামী রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সও আটকে যায়। ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে অসহনীয় যানজটে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় সাধারণ মানুষকে। জরুরি কাজে বের হওয়া নাগরিকরা গন্তব্যে যেতে নাকাল হন।

পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে, বিকল্প পথে যাওয়ার রাস্তাও বন্ধ হয়ে যায়। যার ফলে অনেকেই গণপরিবহন থেকে নেমে পায়ে হেঁটে রওনা দেন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে।

বিকেলে নগরীর কসমোপলিটন আবাসিক থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগামী একটি রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স আটকা পড়ে যায় রাস্তা বন্ধ থাকার কারণে। রোগীর স্বজনরা প্রচন্ড ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

স্বজনরা বললেন, “আমরা প্রতারণার শিকার হয়েছি, পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখিয়ে দেশ দখল করেছে রাজাকাররা,এমন কিছু আশা করিনি।”

ছুটির দিনে শিশু সন্তান নিয়ে বেড়াতে বের হওয়া এক কর্মজীবী নারীর কণ্ঠে অসহায়ত্ব ফুটে ওঠে; বলেন, “এতবছর চট্টগ্রামে এমন নাকাল হয়নি নগরবাসী। জামায়াত-শিবির এভাবে রাস্তা, মাঠঘাট দখলের সুযোগ পায়নি। আমাদের ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করতে হচ্ছে, নিজেদের দুর্ভোগ নিজেরাই ডেকে এনেছি।”

রাত ১১টা নাগাদ এই আয়োজন শেষ হলেও তীব্র আকার ধারণ করেছে যানজট।

ইসলামী সমাজ কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে পাঁচ দিনব্যাপী এই মাহফিল শুরু হয় সোমবার ২৭শে জানুয়ারি থেকে। একসময় কুখ্যাত রাজাকার ও যুদ্ধাপরাধী দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীকে নিয়ে এই মাহফিল আয়োজিত হতো। সাঈদীর উত্তরসুরি হিসেবে মিজানুর রহমান আজহারী বর্তমানে এই মাহফিল শুরু করেছেন।

এদিকে এই মাহফিল কেন্দ্র করে নগরজুড়ে জামায়াত-শিবিরের চাঁদাবাজির মহোৎসব দেখা গেছে। নানারকম রশিদের মাধ্যমে লাগামহীন চাঁদাবাজি করা হয়েছে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের অজুহাতে। অনেক ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন চাঁদার রশিদে আগাম অর্থের অঙ্ক বসিয়ে তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায় করা হয়েছে।

এ সংক্রান্ত অনেক ছবি ও ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও এ ব্যাপারে জামায়াত-শিবিরের কোনো দায়িত্বশীল নেতা মুখ খুলতে রাজি হননি।

Visited 124 times, 1 visit(s) today