কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতাদের মৃত্যুর মিছিল থামছেই না, এবার শ্রমিক লীগ নেতার মৃত্যু

কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতাদের মৃত্যুর মিছিল থামছেই না, এবার শ্রমিক লীগ নেতার মৃত্যু
শেয়ার করুন
সংবাদ প্রতিবেদন

কারাবন্দী অবস্থায় আওয়ামী লীগ নেতাদের মৃত্যুর মিছিল যেন থামছেই না। দেশের কয়েকটি কারাগারে বন্দী অবস্থায় আওয়ামী লীগ নেতাদের মৃত্যুর মিছিলে এবার যুক্ত হলেন গাজীপুরের একজন শ্রমিক লীগ নেতা।

আজ শুক্রবার ১০ই জানুয়ারি, গাজীপুর জেলা কারাগারে শ্রমিক লীগ নেতা শেখ জহিরুল ইসলামের (৪৬) মৃত্যুবরণের তথ্য নিশ্চিত করল কারা কর্তৃপক্ষ।

শুক্রবার বিকালে তিনি মারা যান বলে গাজীপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. রফিকুল কাদের জানান।

শ্রমিক লীগ নেতা শেখ জহিরুল ইসলাম উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের সিংদিঘী গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে। তিনি ৯ই আগস্ট শ্রীপুর থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলায় গত ৫ই ডিসেম্বর গ্রেপ্তার হয়ে ওই কারাগারে বন্দি ছিলেন।

জেল সুপার মো. রফিকুল কাদেরের দাবি, জহিরুল ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগে ভুগছিলেন।

তিনি বলেন, আজ শুক্রবার বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে জহিরুল বুকে ব্যথার অভিযোগ করলে আমরা তাকে কারাগারের অভ্যন্তরীণ হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে ৪টা ৪০ মিনিটে শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পড়ুন: পাঁচ মাসে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নিপীড়নের ভয়াবহ চিত্র মানবাধিকার প্রতিবেদনে

শহিদ তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) শেখ ফারহাদ জানান, জহিরুল ‘সম্ভবত’ হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন।

তিনি বলেন, বিকেলে জহিরুলকে আমাদের কাছে মৃত অবস্থায় আনা হয়।

শ্রমিক লীগ নেতা জহিরুল ইসলামের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন এই চিকিৎসক।

গাজীপুর জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষ অবশ্য এর আগে এই শ্রমিক লীগ নেতার মৃত্যুর পেছনে হৃদরোগকে দায়ী করেছেন। তবে জেল সুপার জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর জহিরুলের মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

এদিকে সুরক্ষিত কারা-অভ্যন্তরে একের পর এক আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যুর খবরে জনমনে জন্ম দিয়েছে নানা প্রশ্নের। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে আশঙ্কাজনক তথ্য।

মানবাধিকার লঙ্ঘন বিষয়ে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দেশের বিভিন্ন কারাগারে অসুস্থতাসহ বিভিন্ন কারণে ৬৫ জন বন্দির মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২৩ জন কয়েদি এবং ৪২ জন হাজতি। বিশেষত বগুড়া কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতাদের কথিত হৃদরোগে মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্তের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ১১ই নভেম্বর থেকে ৯ই ডিসেম্বরের মধ্যে মাত্র ২৯ দিনের ব্যবধানে বগুড়া কারাগারে ৪ জন আওয়ামী লীগ নেতা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

► ২৬শে নভেম্বর: শাহাদত আলম (৫৭), বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।
► ২৫শে নভেম্বর: আবদুল লতিফ (৬৭), শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ।
► ১১ই নভেম্বর: শহিদুল ইসলাম (৫৮), বগুড়া পৌরসভার ১৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।
► ৯ই ডিসেম্বর: আব্দুল মতিন ওরফে মিঠু (৬৫), গাবতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য।

এই মৃত্যুগুলোতে ‘হৃদরোগ’ উল্লেখ করা হলেও, এমন ‘ধারাবাহিকতায়’ সন্দেহ দানা বেঁধেছে এবং ঘটনাগুলো নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছে মানবাধিকার সংগঠনটি।

Visited 51 times, 1 visit(s) today