বেসরকারি খাতে বিনিয়োগে অনীহা, অর্থনৈতিক সংকটের আশঙ্কা

বেসরকারি খাতে বিনিয়োগে অনীহা, অর্থনৈতিক সংকটের আশঙ্কা
শেয়ার করুন

ঢাকা, ২৫শে নভেম্বর – বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের অভাব এবং সুদের হার বৃদ্ধির ফলে নতুন বিনিয়োগের প্রতি উদ্যোক্তাদের আগ্রহ কমছে, এমনটা জানিয়েছেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। তিনি বলছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং শ্রমিক অস্থিরতার কারণে দেশের অর্থনীতি চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে, যা মন্দার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

সোমবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, “বর্তমানে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের তেমন কোনো প্রবাহ নেই। সুদের হার বাড়ানোর ফলে উদ্যোক্তারা নতুন বিনিয়োগের বিষয়ে উৎসাহিত হচ্ছেন না।” তিনি আরও বলেন, “যদি সরকারি উন্নয়ন ব্যয় না বাড়ে, তাহলে অর্থনীতির সংকট আরও গভীর হতে পারে।”

রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বিশৃঙ্খলার কারণে বেসরকারি খাতে উৎপাদনেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে, বিশেষ করে গার্মেন্ট খাতে। এর পাশাপাশি, তিনি সরকারকে দ্রুত নতুন প্রকল্প গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং উদ্ভাবনী খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া যায়।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা উপদেষ্টা আরও বলেন, “আমরা বর্তমান সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার জন্য চিঠি দেব।” তিনি আশ্বাস দেন যে, প্রকল্পগুলোর দুর্নীতিমুক্ত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবে।

বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের অভাবের প্রেক্ষিতে প্রবৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে উপদেষ্টা বলেন, “যদিও বেসরকারি খাতে এক বছর বিনিয়োগ না হলেও কিছুটা প্রবৃদ্ধি সম্ভব।” তবে, এডিপি বাস্তবায়নের হার কম হওয়ার কারণে ২০২৪ সালের উন্নয়ন বাজেট ছোট করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, “প্রথম থেকেই আমরা বলেছি, বাজেটের চেয়ে বাস্তবায়ন কম হয়। তাই এবার বিভিন্ন কারণে এডিপির আকার ছোট করতে হয়েছে, এবং বেশ কিছু প্রকল্প বাদ দিতে হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “এই প্রকল্পগুলো অনেক সময় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল এবং তাদের ব্যয় অনুযায়ী সুফল আসবে না বলে মনে হয়েছে। তাই এসব বাদ দেওয়া হয়েছে।”

একনেক সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা আরও জানান, “বর্তমানে একটি নতুন প্রকল্পের জন্য পরিকল্পনা চলছে, যা ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০৩২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। এটি অত্যন্ত জরুরি, কারণ চট্টগ্রামের পানি নিষ্কাশনের সমস্যা মোকাবিলা করার জন্য একক প্রকল্প যথেষ্ট নয়।”

এ প্রকল্পে জাপানের ঋণদানের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “জাপানি ঋণ দীর্ঘমেয়াদি এবং কম সুদের হারে প্রদান করা হয়, যা আমাদের জন্য খুবই সুবিধাজনক।”

চট্টগ্রামের পানি নিষ্কাশন সমস্যা সমাধানে এই নতুন প্রকল্পে জাইকা ৪,১৪৪ কোটি টাকা এবং বাংলাদেশ সরকার ৯৬৯ কোটি টাকা অর্থায়ন করবে।

Visited 23 times, 1 visit(s) today