❐ স্থানীয় সংবাদদাতা
কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে কোনোভাবেই থামছে না অপহরণকারী চক্রের তাণ্ডব। টানা তিন দিন পাহাড়ি আস্তানায় বন্দি রেখে পাশবিক নির্যাতনের পর অবশেষে ৪ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাত থেকে মুক্ত হয়েছেন মো. রফিক (৪০) নামে এক যুবক।
আজ ২৩শে অক্টোবর, শুক্রবার দুপুরে টেকনাফের দক্ষিণ শিলখালী এলাকার পাহাড়ের পাদদেশে তাকে হাত-পা বাঁধা ও রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে যায় অপহরণকারীরা। খবর পেয়ে স্বজনরা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
মুক্ত হওয়া মো. রফিক টেকনাফের দক্ষিণ শিলখালী এলাকার মমতাজ আহমদের জ্যেষ্ঠ পুত্র।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত তিন দিন আগে রফিক তার নিজ সুপারি বাগানে পরিচর্যা করতে গেলে একদল অস্ত্রধারী দুর্বৃত্ত তাকে জিম্মি করে টেকনাফের গহীন পাহাড়ে তুলে নিয়ে যায়। অপহরণের পরদিনই রফিকের পরিবারের মোবাইল ফোনে কল দিয়ে তার প্রাণনাশের হুমকি দেয় সন্ত্রাসীরা এবং ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।
রফিকের স্বজনরা জানান, জীবনের ভয়ে তারা অপহরণকারীদের সাথে দরকষাকষি শুরু করেন। একপর্যায়ে ৪ লাখ টাকায় রফিককে ছেড়ে দিতে রাজি হয় চক্রটি। বাধ্য হয়ে জমানো টাকা ও ঋণ করে মুক্তিপণ পরিশোধ করার পরই রফিককে মুক্তি দেওয়া হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রফিকের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে সংকটজনক। টানা তিন দিন অনাহারে-অর্ধাহারে রাখা এবং ভারী অস্ত্র ও লাঠিসোটা দিয়ে তার ওপর নির্মম শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। শরীরের একাধিক স্থানে গভীর আঘাত ও নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা চিকিৎসকরা জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও মানসিক ট্রমার কারণে তিনি গুরুতর অসুস্থ।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আবু সাঈদ বলেন, “অপহৃত ব্যক্তি পাহাড়ি এলাকা থেকে ফিরে এসে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে আমরা খবর পেয়েছি। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদারকি করছে। তবে মুক্তিপণ লেনদেনের বিষয়ে পুলিশ অফিসিয়ালি কিছু জানে না।”
টেকনাফের পাহাড় কেন্দ্রিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী চক্রগুলোর অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় এবং সাধারণ মানুষদের গহীন পাহাড়ে নিয়ে নির্যাতনের ঘটনা সম্প্রতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, কৃষি কাজ বা দৈনন্দিন কাজে পাহাড়ি সীমান্ত এলাকায় যেতে এখন চরম আতঙ্কে দিন কাটাতে হচ্ছে।
স্থানীয় সুশীল সমাজ অবিলম্বে এসব পাহাড়ি আস্তানায় যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানের জোর দাবি জানিয়েছেন।
