রাঙ্গুনিয়ায় চাঁদা না পেয়ে প্রবাসীর পরিবারে বর্বরোচিত হামলা: শিশুসহ গুলিবিদ্ধ-আহত ৫, আতঙ্কে জনশূন্য এলাকা

রাঙ্গুনিয়ায় চাঁদা না পেয়ে প্রবাসীর পরিবারে বর্বরোচিত হামলা: শিশুসহ গুলিবিদ্ধ-আহত ৫, আতঙ্কে জনশূন্য এলাকা
শেয়ার করুন

❐ স্থানীয় সংবাদদাতা


চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার সরফভাটা ইউনিয়নে চাঁদার দাবিতে এক প্রবাসী পরিবারের ওপর সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা নারকীয় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তরা।

৫ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে ঘরে ঢুকে গুলিবর্ষণ ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে শিশুসহ একই পরিবারের ৫ জনকে গুরুতর জখম করা হয়েছে।

ঘটনার ৩৬ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও মামলা দায়ের না হওয়ায় এবং সন্ত্রাসী আস্তানায় অভিযান না চলায় পুরো সরফভাটাজুড়ে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে সরফভাটার ১ নম্বর ওয়ার্ডের লুসার বাপের টিলা এলাকার জামির আলী তালুকদার বাড়িতে এ নৃশংস ঘটনা ঘটে। এলাকাটির অন্তত ১০টি পরিবারের কাছে সন্ত্রাসীরা মাথাপিছু ৫ লাখ টাকা করে চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় সেদিন রাতে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী ঘরে ঢুকে জিম্মি করে তাদের।

সন্ত্রাসীরা নির্বিচারে তাণ্ডব চালিয়ে ঘরবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট করে। তারা নগদ টাকা, ১৫টি মোবাইল ফোন এবং দুই জোড়া স্বর্ণের দুল সহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়।

চাঁদা না দেওয়ার অপরাধে ওমানফেরত প্রবাসী মো. গোলাপের (৪৫) ডান হাতে গুলি করা হয় এবং বাম হাতে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কোপানো হয়। তার ছেলে মীরেরখীল উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র মো. আছিফের (১৮) বাম হাতের কব্জিতে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

এছাড়া বড় ভাই মোহাম্মদ সৈয়দকে (৫৫) বন্দুকের বাট ও লাঠি দিয়ে বুকে, মাথায় পিটিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত করা হয়। এ সময় সন্ত্রাসীদের বর্বরোচিত হামলা থেকে রেহাই পায়নি কোমলমতি শিশুরা—৩ বছরের শিশু মোহাম্মদের মুখে আঘাত করে দাঁত ফেলে দেওয়া হয় এবং ৫ বছরের শিশু রাকিবকে সজোরে লাথি মেরে গুরুতর আহত করা হয়।

গুরুতর আহত গোলাপ ও তার ছেলে আছিফকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, ইতোমধ্যেই তাদের শরীরে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে এবং তাদের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।

খবর পেয়ে রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) বেলায়েত হোসেন এবং দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হিলাল উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শনের মাধ্যমে এলাকা টহল জোরদার করেছে।

তবে শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর রাত পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের হয়নি। এ বিষয়ে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি জানান, ভুক্তভোগীরা চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ও ব্যস্ত থাকায় থানায় এসে অভিযোগ দিতে দেরি হচ্ছে, তবে পুলিশ ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে জড়িতদের শনাক্তে অভিযান পরিচালনা করছে।

এদিকে একের পর এক খুন, হামলা, ডাকাতি ও চাঁদাবাজিতে অচল হয়ে পড়েছে সরফভাটা। সন্ত্রাসীদের অব্যাহত হুমকিতে মীরেরখীলসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার শত শত পরিবার বর্তমানে ভিটেমাটি ছেড়ে এলাকাছাড়া।

স্থানীয়রা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে রাঙ্গুনিয়ার প্রশাসন ও স্থানীয় নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তাদের দাবি, জঙ্গল সলিমপুরের ধাঁচে দ্রুত সরফভাটায় র‍্যাব-পুলিশের যৌথ সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

Visited 3 times, 1 visit(s) today