সরকারি প্রশিক্ষণ ও ভাতার লোভ দেখিয়ে মিছিলে নারীদের এনে উধাও এনসিপি নেতারা

সরকারি প্রশিক্ষণ ও ভাতার লোভ দেখিয়ে মিছিলে নারীদের এনে উধাও এনসিপি নেতারা
শেয়ার করুন

❐ জেলা প্রতিনিধি


প্রশিক্ষণ ও ভাতার লোভ দেখিয়ে সাধারণ নারীদের একটি রাজনৈতিক বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিতে বাধ্য করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সহযোগী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে।

কুষ্টিয়া শহরে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে এসে প্রতারিত হয়েছেন উল্লেখ করে বেশ কয়েকজন নারীর দেয়া বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

জানা গেছে, গতকাল ৭ই অক্টোবর, বুধবার বিকেলে এনসিপির নেতা নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর ওপর হামলার প্রতিবাদে কুষ্টিয়া পৌরসভার ‘বিজয় উল্লাস চত্বর’ থেকে এক প্রতিবাদ মিছিল বের করা হয়।

এনসিপির সহযোগী সংগঠন—জাতীয় ছাত্রশক্তি, যুবশক্তি, শ্রমিকশক্তি ও নারীশক্তির ব্যানারে আয়োজিত এই মিছিলটি শহরের প্রধান সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ করে পাঁচ রাস্তার মোড়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

তবে গোল বাঁধে মিছিল শুরুর আগেই। কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর এলাকা থেকে আসা এক নারী এক সংবাদকর্মীর কাছে অভিযোগ করে বলেন, “আমাক ট্রেনিংয়ের কথা বলে পৌরসভায় নিয়া আইছে, এ্যানে আইসে দেখছি মিছিল।”

তার সাথে থাকা আরেক নারী জানান, পৌরসভায় আসার কথা বলা হলেও রাজনৈতিক মিছিলে হাঁটাতে হবে—তা তারা আগে থেকে ঘুণাক্ষরেও জানতেন না।

আরও কয়েকজন নারীর সাথে কথা হয় প্রতিবেদকের। কয়েকজন জানালেন, তাদের মতো অনেক নারীকে আনা হয় এখানে। তাদের বলা হয়েছিল সরকারি প্রশিক্ষণ আর ভাতা দেওয়া হবে। কিন্তু এসে দেখেন মিছিল। কোনো টাকাও দেয়া হয়নি তাদের। যারা এনেছিল, তাদেরকেও এখন আর খুঁজে পাচ্ছেন না তারা।

এসব ভিডিও বার্তা সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে মানুষকে বিভ্রান্ত করে সমাগম বাড়ানোর অপকৌশল নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি আয়োজকরা।

এনসিপির কুষ্টিয়া জেলা শাখার সদস্যসচিব সুলতান মারুফ তালহা জানান, এটি মূল দল এনসিপির কর্মসূচি ছিল না, বরং তাদের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো এর আয়োজন করে।

তিনি আরও দাবি করেন, “আমরা এমন প্রতারণামূলক রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। ঘটনাটি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে জানানো হয়েছে এবং তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন।”

অন্যদিকে অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা জাতীয় নাগরিক কমিটির কুষ্টিয়া জেলার সাবেক সদস্য রাসেল পারভেজের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

পুরো ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর যেকোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষকে সঠিক তথ্য দিয়ে স্বেচ্ছায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার নীতি-নৈতিকতার বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।

Visited 1 times, 1 visit(s) today