ভারতকে এড়াতে শ্রীলঙ্কাকে হারানোর বিকল্প নেই জ্যোতিদের

ভারতকে এড়াতে শ্রীলঙ্কাকে হারানোর বিকল্প নেই জ্যোতিদের
শেয়ার করুন

নারী এশিয়া কাপে ‘বি’ গ্রুপের শীর্ষস্থান সুনিশ্চিত করতে এবং সেমিফাইনালে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের মুখোমুখি হওয়া এড়াতে রোববার বর্তমান চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে জয়ের কোনো বিকল্প নেই বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের।

ইন্দোনেশিয়াকে ৭১ রানে হারিয়ে টুর্নামেন্টে দারুণ সূচনা করেছে টাইগ্রেসরা। অন্যদিকে শ্রীলঙ্কাও উড়ন্ত সূচনার মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করেছে—সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৯ উইকেটে হারানোর পর ইন্দোনেশিয়াকে ৭৫ রানের বিশাল ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে তারা।

শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু বর্তমানে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন। ইন্দোনেশিয়ার বিরুদ্ধে ৫ রানে ৭ উইকেট নেয়ার পথে তিনি হ্যাটট্রিকও অর্জন করেন। বাংলাদেশের বিপক্ষেও তার রেকর্ড বেশ সমৃদ্ধ—১৫ ম্যাচে ২৬.৫৩ গড়ে ৩৯৮ রান করার পাশাপাশি নিয়েছেন ১৫টি উইকেট। মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যানে ১৬টি ম্যাচের মধ্যে লঙ্কানরা জয় পেয়েছে ১৩টিতে, আর বাংলাদেশ জিতেছে ৩টিতে। ২০২৩ সালে কলম্বোয় লঙ্কানদের ৬ উইকেটে হারানোর পর থেকে টানা ছয়টি ম্যাচে হারের মুখ দেখেছে বাংলাদেশ।

তবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশ অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির রেকর্ডও বেশ আশাব্যঞ্জক। লঙ্কানদের বিপক্ষে ১৪ ম্যাচে ২৮.১৮ গড়ে ৩১০ রান করেছেন তিনি।

ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ৪০ রান করা শীর্ষসারির ব্যাটার শোভনা মোস্তারির কাছ থেকেও ধারাবাহিক পারফর্ম্যান্সের প্রত্যাশা থাকবে, যিনি সাম্প্রতিক নারী বিশ্বকাপেও দারুণ ফর্মে ছিলেন।

অন্যদিকে বল হাতে সমান প্রভাবশালী ভূমিকা রাখতে পারেন বামহাতি স্পিনার নাহিদা আক্তার। ইন্দোনেশিয়ার বিরুদ্ধে ১৫ রানে ৩ উইকেট নেয়ার পাশাপাশি শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ১০ ম্যাচে তার ঝুলিতে রয়েছে ১০টি উইকেট।

এই ম্যাচে টস ভূমিকা রাখতে পারে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে। টুর্নামেন্টের প্রথম আটটি ম্যাচের মধ্যে কেবল দুটিতে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করা দল জয় পেয়েছে। ফলে প্রথম ইনিংসে বড় সংগ্রহ দাঁড় করানোই জয়ের মূল চাবিকাঠি হতে পারে।

এক ভয়েস বার্তায় বাংলাদেশ দলের ওপেনার জুয়াইরিয়া ফেরদৌস বলেন, ‘আমাদের পরবর্তী ম্যাচটি আগামীকাল শ্রীলঙ্কার সঙ্গে, যা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যদি জিততে পারি, তবে সেমিফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যাবে এবং আমরা লক্ষ্য অর্জনের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যাব।’

২০ বছর বয়সী এই তরুণী আরও যোগ করেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা এমনভাবে সাজানো হয়েছে যেন সবাই নিজ নিজ ভূমিকা পালন করতে পারে। আমরা শতভাগ দেয়ার চেষ্টা করব। অবশ্যই জয়ের জন্যই আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করব, আপনারা সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’

২০১৮ সালে মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত নারী এশিয়া কাপে চ্যাম্পিয়ন হয়ে মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের নতুন ইতিহাস গড়েছিল বাংলাদেশ। জ্যোতি-বাহিনীর লক্ষ্য এবার দুবাইয়ের মাটিতে সেই গৌরবময় ট্রফি পুনরুদ্ধার করা।

Visited 4 times, 1 visit(s) today