১০০ টাকার নিচে নেই সবজি, নাগালের বাইরে ছুটে চলেছে মাছ-মুরগি-ডিমের দাম

১০০ টাকার নিচে নেই সবজি, নাগালের বাইরে ছুটে চলেছে মাছ-মুরগি-ডিমের দাম
শেয়ার করুন

❐ নিজস্ব প্রতিবেদক


রাজধানীর বাজারে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম ১০০ টাকার ওপরে। কাঁচামরিচের দাম আমদানি বাড়ায় কিছুটা কমে ১৮০ থেকে ২২০ টাকায় নেমেছে। তবে অন্য বেশির ভাগ সবজির দাম এখনো চড়া। একই সঙ্গে এক সপ্তাহের ব্যবধানে মাছ, মুরগি ও ডিমের দামও বেড়েছে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের মানুষের বাজারের পরিমাণ কমে আসছে।

শুক্রবার রাজধানীর রামপুরা, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, মিরপুর ও কারওয়ান বাজার ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে সবজির সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি ও বাজারভেদে চাহিদার ওঠানামাও দামে প্রভাব ফেলছে।

বাজারে কাঁচামরিচ ১৮০ থেকে ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বরবটি ১২০, করলা ১৩০, বেগুন ১২০ থেকে ১৪০, টমেটো ১২০ এবং লাউ ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ঢেঁড়স ও ঝিঙা ৯০, পটোল ৮০, চিচিঙ্গা ১০০, কাঁকরোল ৯০, পেঁপে ৬০ এবং কচুরছড়া ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আলুর দাম ৩০ টাকা কেজি।

কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. বেলাল বলেন, বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকায় সবজির ক্ষতি হয়েছে। ফলে সরবরাহ কমেছে। কাঁচামরিচের দাম একপর্যায়ে ৪০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। এখন আমদানি বাড়ায় দাম কিছুটা কমেছে।

তার দাবি, রাজধানীতে পর্যাপ্ত পণ্যবাহী গাড়ি না আসায় অনেক সবজির সরবরাহ কম রয়েছে।

সবজির পাশাপাশি মাছ, মুরগি ও ডিমের দামও বেড়েছে।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য ও বাজারদর পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ব্রয়লার মুরগি ১৯০ থেকে ২১০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগের তুলনায় এসব পণ্যের দাম ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

মাছের বাজারেও একই প্রবণতা। রুই আকারভেদে ৩৫০ থেকে ৫৫০, কাতলা ৩৫০ থেকে ৫০০, তেলাপিয়া ২৮০ থেকে ৩০০, পাঙাশ ২৮০, মৃগেল ৪০০ এবং সিলভার কার্প ৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

কোরাল মাছের দাম ১ হাজার ১০০, টেংরা ৬০০, বাগদা চিংড়ি ১ হাজার ২০০ এবং রূপচাঁদা ১ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। ইলিশ আকারভেদে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ডিমের দামও বেড়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডজনপ্রতি প্রায় ২০ টাকা বেড়ে ডিমের দাম ১৬০ টাকা হয়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, কোরবানির ঈদের পর থেকেই মুরগির দাম বাড়তে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে সরবরাহের ঘাটতি, গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে বাজারে। এর সঙ্গে পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে।

তাদের দাবি, বিভিন্ন রুটে পরিবহন খরচ ৮ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। জ্বালানির দাম আবার বাড়লে এর প্রভাব বাজারে আরও পড়তে পারে।

তবে পেঁয়াজ ও রসুনের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। বাজারে পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৬০, রসুন ১০০ থেকে ১৮০ এবং আদা ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা অবশ্য বলছেন, এসব পণ্যের সরবরাহও ধীরে ধীরে কমছে।

চালের বাজারে নাজিরশাইল ও মিনিকেট ৭৫ থেকে ৮৫ টাকা, পাইজাম ও আটাশ ৬০ থেকে ৬৫ এবং মোটা চাল ৫৫ থেকে ৫৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সুগন্ধি চালের দাম উঠেছে ২০০ টাকার ওপরে।

দ্রব্যমূল্যের এই ঊর্ধ্বগতির মধ্যে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে আসছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে, গত জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতি কমে ৮ দশমিক ৩২ শতাংশে নেমেছে। তবে বাজারে এর তেমন প্রভাব দেখা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।

শেওড়াপাড়া বাজারে নিয়মিত কেনাকাটা করেন কাজীপাড়ার বাসিন্দা মুনিরা ফেরদৌস। তিনি বলেন, মাছ, মুরগি, ডিম ও প্রয়োজনীয় সবজির দাম প্রতিদিনই বাড়ছে। এক সপ্তাহ আগে যে সবজি ৬০ টাকা ছিল, এখন সেটি ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মুরগি ও ডিমের দামও বেড়েছে। ফলে আগের তুলনায় কম পণ্য কিনতে হচ্ছে।

আগে তিন থেকে চার কেজি মুরগি কিনলেও এখন দেড় কেজি কিনছেন বলে জানান তিনি।

আরেক ক্রেতা বাপ্পারাজ বলেন, বাজারের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারকে আরও কার্যকরভাবে নজরদারি করতে হবে। তার ভাষ্য, বাসায় গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটের পাশাপাশি বাজারেও পণ্যের দাম বাড়ছে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে।

বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, পণ্যের দাম কমাতে হলে উৎপাদন থেকে শুরু করে রাজধানীর খুচরা বাজার পর্যন্ত সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে হবে। একই সঙ্গে সরবরাহ শৃঙ্খলের কোন পর্যায়ে কতটা দাম বাড়ছে, তা নিয়মিত নজরদারির আওতায় আনতে হবে। তা না হলে কোনো একটি পণ্যের দাম কমলেও অন্য পণ্যের বাড়তি দাম সামগ্রিকভাবে ভোক্তার ওপর চাপ তৈরি করবে।

Visited 3 times, 1 visit(s) today