অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ৩০ ভরি স্বর্ণ লুট: কক্সবাজারে এক রাতেই দুই বাড়িতে সশস্ত্র ডাকাতি, এলাকায় চরম আতঙ্ক

অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ৩০ ভরি স্বর্ণ লুট: কক্সবাজারে এক রাতেই দুই বাড়িতে সশস্ত্র ডাকাতি, এলাকায় চরম আতঙ্ক
শেয়ার করুন

❐ জেলা প্রতিনিধি


সিসিটিভি ক্যামেরার সংযোগ বিচ্ছিন্নের পর অস্ত্রের মুখে পরিবারকে জিম্মি— ভোররাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলায় ঘটে গেল দুটি দুর্ধর্ষ ও চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনা।

একই রাতে উপজেলার পৃথক দুটি ইউনিয়নে সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের তাণ্ডবে এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ডাকাতদের বর্বরোচিত হামলায় গুরুতর আহত দুই গৃহবধূ বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

৩০শে জুলাই, বৃহস্পতিবার ভোররাতে উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের টেকপাড়া এবং পোকখালী ইউনিয়নে পরপর এসব দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, রাত আনুমানিক ৩টার দিকে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সশস্ত্র সংঘবদ্ধ ডাকাত দল ইসলামাবাদ ইউনিয়নের টেকপাড়ায় সাবেক ইউপি সদস্য নুরুচ্ছফার বাড়িতে হানা দেয়। পেশাদার এই অপরাধী দলটি বাড়িতে ঢুকেই প্রথমে সিসিটিভি ক্যামেরার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়, যাতে তাদের কোনো প্রমাণ না থাকে।

এরপর দেশীয় অস্ত্রের মুখে পরিবারের সবাইকে জিম্মি করে চলে নির্মম মারধর। ডাকাতেরা পুরো ঘর তছনছ করে নগদ মোটা অঙ্কের টাকা এবং প্রায় ৩০ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। ডাকাতদের হামলায় ঘরের এক গৃহবধূ রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত হন।

একই রাতে পাশ্ববর্তী পোকখালী ইউনিয়নের পশ্চিম পোকখালী এলাকায় মোহাম্মদ হোছনের বাড়িতেও হানা দেয় ডাকাত দল। সেখানে জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে অপরাধীরা।

একইভাবে পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি ও মারধর করে নগদ টাকা, দামি মোবাইল ফোন এবং স্বর্ণালংকার লুট করে নিমিষেই চম্পট দেয় তারা। এই বাড়িতেও ডাকাতদের হামলায় এক গৃহবধূ গুরুতর আহত হন।

সকালে খবর পেয়ে ঈদগাঁও থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল দ্রুত দুটি ঘটনাস্থলই পরিদর্শন করে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম শিফাতুল মাজদার বলেন, “ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। দুর্ধর্ষ এই ডাকাতি ও হামলার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। অপরাধীদের শনাক্ত ও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে পুলিশের অভিযান চলছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।”

একই রাতে দুই ইউনিয়নে এমন পরিকল্পিত ও নির্মম ডাকাতির ঘটনায় পুরো ঈদগাঁও জুড়ে তীব্র আতঙ্ক ও চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত জড়িতদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

Visited 1 times, 1 visit(s) today