আজকের ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শারীরিক ও আগ্রাসী ফুটবল খেলার অভিযোগ তুলেছেন স্পেনের ডিফেন্ডার এমেরিক লাপোর্ত। তার দাবি, বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা ‘প্রতিপক্ষের গায়ে দাগ বসিয়ে দিতে পছন্দ করে’।
নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে মহোত্তেজক ফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন। বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় শুরু হবে ম্যাচটি।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে ২-১ গোলের জয়ে বেশ আগ্রাসী কৌশল বেছে নিয়েছিল আর্জেন্টিনা। ফাইনালে জায়গা করে নেওয়ার লড়াইয়ে ম্যাচজুড়ে ১৫টি ফাউল করেছিল তারা।
স্প্যানিশ পত্রিকা মার্কাকে লাপোর্ত বলেন, ‘পরিস্থিতি যাতে হাতের বাইরে চলে না যায়, সেই দিকগুলো নিয়ন্ত্রণ করা রেফারির দায়িত্ব।’
‘যদি এক বা দুজন খেলোয়াড়কে এভাবে খেলার সুযোগ দেওয়া হয়, তবে ম্যাচটি বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে।’
ম্যানচেস্টার সিটির এই সাবেক ডিফেন্ডার জোর দিয়ে বলেন, ফুটবলের নিয়মের মধ্যে থেকে শারীরিক ফুটবল খেলা নিয়ে তার কোনো আপত্তি নেই। তবে তার মতে, সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে আর্জেন্টিনা সীমা অতিক্রম করেছে।
৩২ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার বলেন, ‘ফুটবলের প্রেক্ষাপটে আগ্রাসন নিয়ে আমি চিন্তিত নই। এটি যদি নিয়মের মধ্যে থাকে এবং রেফারি তার কাজ ঠিকমতো করেন, তবে আমার এতে কোনো সমস্যা নেই।’
‘তবে এটি সত্য যে, সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে আমরা এমন কিছু দেখেছি যা সত্যিই আমাদের অবাক করেছে—এমন কিছু কাজ যা অনায়াসেই ছাড় দেওয়া হয়েছে।’
‘বিশেষ করে আর্জেন্টিনার সঙ্গে। তারা এমন একটি দল যারা প্রতিপক্ষের গায়ে দাগ বসিয়ে দিতে পছন্দ করে। ফুটবলে, বিশেষ করে বড় প্রতিযোগিতাগুলোতে এই ধরনের কাজ মেনে নেওয়া উচিত নয়, কারণ এটি আপনাকে অস্থির ও রাগান্বিত করে তুলতে পারে।’
তবে আর্জেন্টিনার খেলার ধরন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের কণ্ঠে আরও নমনীয় সুর শোনা যায়।
তিনি বলেন, ‘আমি সবার মতামতের প্রতি সম্মান জানাই এবং আমেরিকা ও বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার প্রতি আমার সর্বোচ্চ প্রশংসা রয়েছে।’
‘আমার তাদের প্রতি প্রশংসা এবং আরও গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে।’
অধিনায়ক রদ্রিও কোনো কথার লড়াইয়ে জড়াতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, প্ররোচিত করার যেকোনো চেষ্টার চেয়ে স্পেন তাদের নিজেদের খেলার দিকেই বেশি মনোযোগ দেবে।
ম্যানচেস্টার সিটির এই মিডফিল্ডার বলেন, ‘ম্যাচটি কেমন হয়, তা আমরা দেখব।’
‘আমি মনে করতে চাই আর্জেন্টিনা এমন একটি দল যারা নিজেদের উজাড় করে দেয় এবং তারা সেই পথে হাঁটে না। তবে ম্যাচ যদি সেই পর্যায়ে চলেও যায়, আমাদের তা এড়িয়ে যেতে হবে এবং কোনো প্ররোচনায় না জড়িয়ে নিজেদের ফুটবলটাই খেলতে হবে।’
