চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল এবং স্লুইসগেট বেআইনিভাবে বন্ধ রাখার কারণে দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হয়ে পড়েছে। লাখো মানুষ এখনও পানিবন্দি রয়েছেন।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, মাছ ও লবণের ঘের রক্ষায় স্থানীয় প্রভাবশালী মহল স্লুইসগেট বন্ধ রাখছে এবং খাল-নদীর ওপর অবৈধ বাঁধ নির্মাণ করছে। ফলে বন্যার পানি দ্রুত সাগরে নামতে পারছে না।
চট্টগ্রাম পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী তানজীর সাইফ আহমেদ বলেন, “স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী জোয়ারের সময় স্লুইসগেট বন্ধ রাখা হয় যাতে লবণাক্ত পানি লোকালয়ে না ঢোকে। আর ভাটার সময় গেট খুলে দিয়ে উজানের পানি দ্রুত নামিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু অনেক জায়গায় এই নিয়ম মানা হচ্ছে না। স্থানীয় প্রভাবশালীরা নিজেদের স্বার্থে গেট বন্ধ করে দিচ্ছেন।”
তিনি আরও জানান, মাছ চাষের সুবিধার্থে নির্মিত অবৈধ বাঁধের কারণে বন্যার পানি অনেক ক্ষেত্রে স্লুইসগেট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারছে না। প্রশাসন ও পাউবো যৌথভাবে এসব অবৈধ বাঁধ অপসারণের কাজ চালাচ্ছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক আলাউদ্দিন আলো চকরিয়ার বদরখালী ইউনিয়নের ডেমশিয়া এলাকায় পাঁচ কপাটবিশিষ্ট একটি স্লুইসগেট পরিদর্শন করে দেখেন, কাঠের তক্তা দিয়ে অধিকাংশ অংশ বন্ধ করে মাত্র চার ফুট খোলা রাখা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সেখানে মাত্র তিন ঘণ্টায় প্রায় ৯ লাখ টাকার মাছ ধরা হয়েছে। আলাউদ্দিন আলো বলেন, পানির প্রবাহ ইচ্ছাকৃতভাবে কমিয়ে মাছ ধরার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পাউবো কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্লুইসগেট খুলে দিলেও প্রভাবশালীরা আবার বন্ধ করে দিচ্ছেন। এতে বন্যার পানি আটকে থাকছে এবং দুর্ভোগ বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘস্থায়ী পানিবন্দি অবস্থায় ঘরবাড়ি, ফসল ও মাছের ঘেরের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। প্রশাসনের কাছে দ্রুত অবৈধ বাঁধ ও স্লুইসগেট বন্ধের বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় পাউবো ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে কাজ করছে বলে জানানো হয়েছে।
