নড়াইলে জুলাই যোদ্ধাদের হত্যায় পুরস্কার ঘোষণা, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের দাবি ‘সাজানো’ নাটক

নড়াইলে জুলাই যোদ্ধাদের হত্যায় পুরস্কার ঘোষণা, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের দাবি ‘সাজানো’ নাটক
শেয়ার করুন

❐ নিজস্ব সংবাদদাতা


নড়াইলে জুলাই যোদ্ধা ও আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ছাত্রদের মারার জন্য দেড় লাখ করে টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সংগঠনের ১১ জনের নামোল্লেখ করে অভিযোগ দায়ের করা হয়।

গতকাল ৬ই জুলাই, সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে নড়াইল জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র (বৈছা) আন্দোলনের সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম রানা এ অভিযোগ দায়ের করেন।

যদিও এমন পুরস্কার ঘোষণার সাথে আওয়ামী লীগ এবং তার অঙ্গ-সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম কোনো সংগঠনের সম্পৃক্ততা নেই উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্থানীয় নেতাকর্মীরা পোস্ট করেন। সেখান থেকে দাবি করা হয়, এনসিপি ও বৈছা কর্মীরা আবারও ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগের কর্মীদের ওপর নিপীড়ন চালানোর লক্ষ্যে এমন ‘নাটক’ সাজিয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জুলাই মাস আসায় বিভিন্ন সময়ে বৈছা কর্মী ও জুলাই যোদ্ধাদের মারতে পারলে ফেসবুকে দেড় লাখ টাকা পুরস্কারের ঘোষণা করেন অজ্ঞাতবাসে থাকা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী।

অভিযুক্তরা হলেন- বঙ্গবন্ধু জাতীয় পরিষদ নড়াইলের সিনিয়র সহসভাপতি মো. মিজানুর রহমান নয়ন (৩৮), সহসভাপতি সৌরভ কর্মকার (২৬), ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগরী উত্তর শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সজিবুল ইসলাম হৃদয় (২৬), একই এলাকার শাহাদাত হোসেন রায়হান (২৫), চাচই গ্রামের ইমন শিকদার (২৪), লোহাগড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মিলন জমাদ্দার (২৯), মল্লিকপুর গ্রামের মো. ইস্রাফিল (২৫), কামেশ্বরপুর গ্রামের মো. সজীব চৌধুরী (২৬), কালনা গ্রামের এস কে আসলাম (২৫), নড়াইল পৌরসভার আব্দুল্লাহ আল জাবের লোটাস (৪০) ও সদর উপজেলার সিবানন্দপুর গ্রামের জুবায়ের শেখ (২০)।

নড়াইল জেলা বৈছা সদস্য সচিব আমিরুলের দাবি, জুলাই আসায় আওয়ামী লীগ পাগল হয়ে গেছে। বিদেশে বা বিভিন্ন অজ্ঞাত স্থান থেকে তারা হুমকি দিচ্ছে। কিছুদিন আগে আমার ওপর হামলার মিথ্যা গুজব ছড়ায়। তাদের আইনের আওতায় আনা জরুরি। আমরা আইনের দ্বারস্থ হয়েছি। প্রতিকার চাই, তবে প্রতিকার না পেলে আমরা প্রস্তুত আছি পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য।

অভিযুক্ত নড়াইল পৌরসভার আব্দুল্লাহ আল জাবের লোটাস বলেন, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে তাদের কাউরে আমি চিনি না। তাদের সঙ্গে আমার কোনো যোগাযোগই নেই। আর যারা আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে তাদেরও কাউরে আমি চিনি না। তাদের মারতে কেন টাকা খরচ করতে যাব? এসব তাদের সাজানো নাটক। আওয়ামী লীগের কর্মীদের ওপর হামলার ছুতা খুঁজছে তারা।

এ বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Visited 6 times, 1 visit(s) today