নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা, ২৭ মে ২০২৬।
রাজধানীর মগবাজারে আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ/নবজাতক ওয়ার্ডে এয়ার কন্ডিশনারের গ্যাস লিকেজে ৬ নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। মৃত শিশুগুলোর বয়স ছিল মাত্র ১ থেকে ৩ দিন।
ঈদ-উল-আজহার আগের দিন এই ঘটনায় সারাদেশে গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্র ও স্বজনদের বরাতে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার ভোরের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। ওয়ার্ডে ১১ জন মা ও তাদের নবজাতক শিশু ছিল। রাতের কোনো এক সময় এসির গ্যাস লিক হয়ে বিষাক্ত পরিবেশ তৈরি হয়। শিশুরা ঘুমন্ত অবস্থায় আক্রান্ত হয়। একে একে ৬ জন নবজাতকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।
মৃত শিশুগুলো সবাই অত্যন্ত ছোট—কারও বয়স ১ দিন, কারও ২ দিন এবং সর্বোচ্চ ৩ দিন। এত অল্প বয়সী শিশুদের এমন অকালমৃত্যু স্বজনদের মধ্যে অসহ্য কান্না ও আহাজারির সৃষ্টি করেছে।
এক শিশুর মা অসহায় হয়ে বলেন, “আমার বুকের দুধ খাওয়া শিশুটাকে ওয়ার্ডে রেখে এসেছিলাম, আর ফিরে পেলাম না।”
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে এসির রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস লিকেজকে দায়ী করেছে। তবে সঠিক কারণ নির্ণয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, পুলিশ ও সিআইডি তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনাস্থলে সিআইডির ক্রাইম টিম কাজ করছে।
এ ঘটনায় হাসপাতালের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা, এসি সিস্টেমের নিয়মিত পরীক্ষা এবং নবজাতক ওয়ার্ডের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নবজাতকদের জন্য এমন স্পর্শকাতর ওয়ার্ডে গ্যাস লিক ডিটেক্টর, নিয়মিত মেইনটেন্যান্স এবং জরুরি প্রোটোকল থাকা অত্যাবশ্যক।
আদ-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে এবং তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।
এমন মর্মান্তিক ঘটনা যেন ভবিষ্যতে আর না ঘটে, সেজন্য দেশের সব হাসপাতাল বিশেষ করে নবজাতক ওয়ার্ডে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি উঠেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ও বিষয়টি নজরে রেখেছে বলে জানা গেছে।
শোকাহত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন। এ ঘটনা চিকিৎসা খাতে অবহেলার বিরুদ্ধে নতুন করে সচেতনতা তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
Visited 12 times, 1 visit(s) today
