❐ নিজস্ব প্রতিবেদক
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ১৪তম বারের মতো পিছিয়ে আগামী ৭ই জুন ধার্য করেছে আদালত।
রোববার ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টের (সিআইডি) তদন্ত কর্মকর্তা ও ঢাকা মেট্রোর (পূর্ব) সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর কাদির ভূঁঞা প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম নতুন এই তারিখ নির্ধারণ করেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জুলাই সন্ত্রাস-বিক্ষোভ এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবির মধ্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া শরিফ ওসমান হাদি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
গত ১২ই ডিসেম্বর গণসংযোগের জন্য বিজয়নগর এলাকায় গেলে চলন্ত রিকশায় থাকা অবস্থায় তাকে গুলি করেন চলন্ত মোটরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা একজন আততায়ী।
গুরুতর আহত হাদিকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে অস্ত্রোপচার করা হয়। সেই রাতেই তাকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং এর দুদিন পর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ই ডিসেম্বর তার মৃত্যুর খবর আসে।
হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ১৪ই ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। পরে মামলায় হত্যার ৩০২ ধারা যুক্ত করা হয়। থানা পুলিশের হাত ঘুরে মামলার তদন্তের দায়িত্ব যায় গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে।
তদন্ত শেষে গত ৬ই জানুয়ারি সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি ও সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ মোট ১৭ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয় ডিবি পুলিশ। কিন্তু এই অভিযোগপত্রে সন্তুষ্ট হয়নি ইনকিলাব মঞ্চ।
১২ই জানুয়ারি মামলা শুনানির দিন বাদী আব্দুল্লাহ আল জাবের অভিযোগপত্র পর্যালোচনার জন্য দুই দিন সময় চাইলে আদালত তা মঞ্জুর করে ১৫ই জানুয়ারি পরবর্তী দিন ধার্য করেন।
সেদিন ডিবির অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে নারাজি দাখিল করেন বাদী। পরে আদালত মামলাটির অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব দেয় সিআইডিকে।
অভিযোগপত্রে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে রয়েছেন ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ (৩৭)। তার সঙ্গে আসামি করা হয়েছে তার বাবা মো. হুমায়ুন কবির (৭০), মা হাসি বেগম (৬০), স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া (২৪), শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু (২৭) এবং বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা (২১)-কে। এ ছাড়া আসামি হয়েছেন মো. কবির (৩৩) ও মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল (৩৪)।
ভারতে পালাতে সহায়তার অভিযোগে আসামি করা হয়েছে সিবিয়ন দিউ (৩২), সঞ্জয় চিসিম (২৩) ও মো. আমিনুল ইসলাম ওরফে রাজুকে (৩৭)।
হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র-গুলি উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছেন মো. ফয়সাল (২৫), মো. আলমগীর হোসেন ওরফে আলমগীর শেখ (২৬) এবং সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী।
পলাতক অবস্থায় রয়েছেন ফিলিপ স্নাল (৩২), মুক্তি মাহমুদ (৫১), জেসমিন আক্তার (৪২) এবং প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিমসহ মোট পাঁচজন।
তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদের দেওয়া অভিযোগপত্রে আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং বিভিন্ন সময়ে হাদির দেওয়া রাজনৈতিক বক্তব্য বিশ্লেষণ করে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
তবে অভিযোগ রয়েছে, জুলাই সন্ত্রাসে জড়িত জামায়াত-শিবির এবং এনসিপিসহ সমমনা দলগুলোর আভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং রাজনৈতিক ‘লাশ-ব্যবসার’ প্রয়োজনে হাদিকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
এ ছাড়া আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে এবং ভোটারদের মধ্যে ভয়ভীতি তৈরি করতে আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে হাদির নির্বাচনি প্রচারে অনুপ্রবেশ করেছিল বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
সিআইডির অধিকতর তদন্তের প্রতিবেদন ১৪ বার পেছানোর পর এখন নতুন তারিখ ধার্য হয়েছে আগামী ৭ই জুন। মামলার বিচার কবে শুরু হবে তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
