‘আওয়ামী লীগের লোক’ তকমা দিয়ে চাঁদাবাজি করা লাল বাহিনী প্রধান গ্রেপ্তার

‘আওয়ামী লীগের লোক’ তকমা দিয়ে চাঁদাবাজি করা লাল বাহিনী প্রধান গ্রেপ্তার
শেয়ার করুন

বিডি ডাইজেস্ট প্রতিবেদন
রাজধানীর খিলক্ষেত ও নিকুঞ্জ এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা আলোচিত ‘লাল বাহিনী’র প্রধান নূর হোসেন লালকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (৪ মে) রাতে রাজধানীর নিকুঞ্জ-২ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও সরকারি জমি দখলের এক শক্তিশালী সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এলাকাবাসীর তথ্যমতে, খিলক্ষেত থানা থেকে মাত্র ৫০ গজ দূরত্বে নূর হোসেন লাল তার ছোট ভাই বাবুলের মাধ্যমে মাদকের কারবার নিয়ন্ত্রণ করতেন। তার একক নিয়ন্ত্রণে ছিল নিকুঞ্জ-২ এর ১ নম্বর রোডের দোকানপাট, ফলের দোকান এবং পিকআপ স্ট্যান্ড।

অভিযোগ রয়েছে, লালের ক্যাডাররা নিয়মিত দোকানদারদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করত। প্রতি মাসে এই এলাকা থেকে কমপক্ষে ১০ লাখ টাকা চাঁদা তুলত তার বাহিনী। নিকুঞ্জ-২ এর ১/এ রোডে অন্তত সাতটি মালিকহীন বা সরকারি প্লট জোরপূর্বক দখল করে রেখেছেন লাল। সেখানে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে তিনি নিয়মিত ভাড়া আদায় করছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, ১/এ রোডে অবস্থিত বিএনপির রাজনৈতিক কার্যালয়কে নিজের ‘টর্চার সেল’ হিসেবে ব্যবহার করতেন লাল। কেউ তার অবাধ্য হলে বা চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে সেখানে নিয়ে শারীরিক নির্যাতন করা হতো।

নূর হোসেন লাল একসময় যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে ১৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতার ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় পরিচিত। এই পরিচয় ব্যবহার করেই তিনি সাধারণ মানুষকে ভয় দেখাতেন। তার সবচেয়ে বড় অস্ত্র ছিল কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে ‘আওয়ামী লীগের লোক’ তকমা দিয়ে পুলিশি হয়রানি বা শারীরিক নির্যাতনের হুমকি দেওয়া। এই আতঙ্কে স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন মুখ খোলার সাহস পাননি।

নিকুঞ্জ এলাকায় মাদক ও চাঁদাবাজির ভয়াবহতা নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হওয়ার পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার রাতে খিলক্ষেত থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহরাব আল হোসাইন এ বিষয়ে বলেন, চাঁদাবাজ ও অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। জনগণের জানমাল রক্ষায় পুলিশ যেকোনো কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নূর হোসেন লালের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

নূর হোসেন লালের গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে খিলক্ষেত ও নিকুঞ্জ এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। তবে স্থানীয়দের দাবি, শুধু গ্রেপ্তার করলেই হবে না, লালের দখলে থাকা কোটি কোটি টাকার সরকারি ও অজ্ঞাত মালিকের প্লটগুলো অবিলম্বে উদ্ধার করতে হবে। একইসঙ্গে তার বাহিনীর অন্যান্য সদস্যদেরও আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

Visited 7 times, 1 visit(s) today