বিডি ডাইজেস্ট প্রতিবেদন
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধরনের ওলটপালটের সাক্ষী হলো পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বর আসন। তৃণমূল কংগ্রেসের হেভিওয়েট প্রার্থী তথা রাজ্যের গ্রন্থাগার মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীকে পরাজিত করে এই আসনে জয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী সৈকত পাঁজা।
রাজনৈতিক মহলে সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর এই পরাজয় বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধী ও রাজাকারদের বিচারের বিরোধী হিসেবে পরিচিত এবং বিভিন্ন সময় উগ্র ধর্মীয় তকমা পাওয়া সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীকে এই নির্বাচনে বড় ব্যবধানে প্রত্যাখ্যান করেছে মন্তেশ্বরের মানুষ।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বিজেপি প্রার্থী সৈকত পাঁজা মোট ৯৬হাজার ৫৫৯টি ভোট পেয়েছেন। তিনি তৃণমূলের বিদায়ী মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীকে ১৪ হাজার ৭৯৮ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন।
মন্তেশ্বরের রাজনীতির সমীকরণটি বেশ নাটকীয়। এক সময় এই আসনটি ছিল তৃণমূলের অভেদ্য দুর্গ, যা গড়েছিলেন সৈকত পাঁজার বাবা প্রয়াত সজল পাঁজা।
২০১৬ সালে সজল পাঁজা মন্তেশ্বরের প্রথম তৃণমূল বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হন। সজল পাঁজার মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে সৈকত পাঁজাকেই টিকিট দেয় তৃণমূল এবং তিনি বড় ব্যবধানে জয়ী হন। ২০২১ সালের নির্বাচনের আগে সৈকত পাঁজা তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। এবার বাবার গড়া সেই আসনেই গেরুয়া শিবিরের হয়ে লড়ে তৃণমূলের মন্ত্রীকে ধরাশায়ী করলেন তিনি।
বিপুল জয়ের পর সৈকত পাঁজা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “মন্তেশ্বরে গ্রন্থাগার মন্ত্রীকে হারিয়ে আমি বিশেষ আনন্দ পেয়েছি। আজ এক অন্যরকম দিন। মন্তেশ্বরের মানুষের প্রতি আমি চিরকৃতজ্ঞ যে তারা ষড়যন্ত্রকারী ও জনবিচ্ছিন্ন নেতাদের যোগ্য জবাব দিয়েছেন।”
এদিকে রাজ্যজুড়ে টানটান উত্তেজনার মধ্যে নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ভবানীপুর আসনে মমতা ব্যানার্জী এগিয়ে থাকলেও নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে। তবে সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর মতো প্রভাবশালী মন্ত্রীর পরাজয় তৃণমূল শিবিরের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। খবর পাওয়া গেছে, তৃণমূলের একাধিক কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
