পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী কে হচ্ছেন

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী কে হচ্ছেন
শেয়ার করুন

বিডি ডাইজেস্ট প্রতিবেদন
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় আসতে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। এর ফলে এখন সবার নজর ধীরে ধীরে দলটির মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থীর দিকে সরছে। নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বারবার জোর দিয়ে বলেছিলেন, যেকোনও এক বাঙালিই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হবেন। তৃণমূল কংগ্রেসের তোলা ‘বহিরাগত’ তত্ত্বের পাল্টা হিসেবেই অমিত শাহের এই মন্তব্য ছিল।

বিজেপির পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকা সম্ভাব্য প্রার্থীদের একটি তালিকা নিচে তুলে ধরেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

শুভেন্দু অধিকারী

সব দিক থেকেই মুখ্যমন্ত্রী পদের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেনাপতি ছিলেন। ২০২১ সালের নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস আগে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে তার বিজেপিতে যোগ দেওয়া তৃণমূল নেত্রীর জন্য বড় ধাক্কা ছিল। সে সময় নন্দীগ্রামে মমতাকে হারিয়ে শুভেন্দু বড় আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন। ২০১১ সালে তৃণমূলের ক্ষমতায় আসার পেছনে নন্দীগ্রামের জমি অধিগ্রহণ বিরোধী আন্দোলন বড় ভূমিকা রেখেছিল।

২০২১ সালের নির্বাচনে বিজেপি ক্ষমতায় আসতে ব্যর্থ হয়ে ৭৭টি আসনে আটকে গেলেও শুভেন্দু অধিকারী বিরোধী দলনেতার পদ পান। এরপর টানা পাঁচ বছর তিনি বিধানসভার ভেতরে মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে অত্যন্ত আগ্রাসী ভূমিকা পালন করেন। বামপন্থিদের স্বর্ণযুগে কংগ্রেসের ছাত্র রাজনীতি দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করা শুভেন্দু নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় মমতার ডান হাত ছিলেন এবং সেখানে তৃণমূলের শক্তিকে সংগঠিত করেছিলেন।

শুভেন্দু প্রসঙ্গে বলা হচ্ছে, ‘২০২১ সালের পরাজয়ের পর সবাই ভেবেছিল বিজেপি ধুয়ে-মুছে যাবে। কিন্তু সেই সময় শুভেন্দু অধিকারী দলের হাল ধরেছিলেন, নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা মোকাবিলা করেছিলেন। যা বেশ কয়েকটি জেলায় দলের সাংগঠনিক ক্ষতি করেছিল এবং দলীয় কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি স্বাভাবিকভাবেই বিজেপির অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে ওঠেন এবং কেবল পূর্ব মেদিনীপুর নয়, বরং পুরো রাজ্যের নেতা হয়ে ওঠেন।’

শমীক ভট্টাচার্য

আরএসএসের একজন পুরোনো কর্মী এবং অটল বিহারী বাজপেয়ীর ঘরানার একজন মধ্যপন্থি মুখ হিসেবে পরিচিত শমীক ভট্টাচার্য। রাজ্যে বিজেপি যখন প্রান্তিক শক্তি ছিল, তখন থেকেই তিনি দলের সঙ্গে যুক্ত। ২০১৪ সালের উপনির্বাচনে বসিরহাট দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে তিনি ছিলেন রাজ্যের প্রথম নির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক। বিজেপি যদি কোনও বাঙালি ‘ভদ্রলোক’ মুখ বেছে নিতে চায়, তবে শমীক ভট্টাচার্য অন্যতম সেরা বিকল্প হবেন।

স্বপন দাশগুপ্ত

সাবেক সাংবাদিক স্বপন দাশগুপ্ত ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপির দৈনন্দিন কার্যক্রমে যুক্ত হন। রাজ্য বিজেপির আরেকজন ‘ভদ্রলোক’ মুখ হিসেবে পরিচিত স্বপন দাশগুপ্ত দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বেশ ঘনিষ্ঠ। তবে প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার ঘাটতি তার একটি দুর্বলতা।

দিলীপ ঘোষ

রাজ্য বিজেপির সাবেক সভাপতি দিলীপ ঘোষ ২০১৬ সাল থেকে দলটিকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে এবং এগিয়ে নিতে বড় ভূমিকা রেখেছেন। ওই সময় বিধানসভায় দলটির মাত্র তিন জন বিধায়ক ছিলেন। তিনি বেশ জনপ্রিয় একজন ব্যক্তিত্ব। তার অধীনেই ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে দল ৪২টি আসনের মধ্যে ১৮টিতে জয়লাভ করে, যা এখন পর্যন্ত লোকসভা নির্বাচনে দলটির সেরা পারফরম্যান্স। ২০২১ সালের পরাজয় এবং এরপর ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর তিনি দল থেকে কিছুটা দূরে সরে গিয়েছিলেন। তবে গত জানুয়ারিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকের পর তাকে আবারও মূল ধারায় ফিরিয়ে আনা হয়। তিনি খড়গপুর সদর আসন থেকে জয়ী হতে চলেছেন।

সুকান্ত মজুমদার

রাজ্য বিজেপির আরেকজন সাবেক সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বর্তমানে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। বিজেপি যদি তাদের শক্তিশালী ঘাঁটি উত্তরবঙ্গ থেকে কাউকে শীর্ষ পদের জন্য বেছে নিতে চায়, তবে তিনি অন্যতম পছন্দ হতে পারেন।

Visited 18 times, 1 visit(s) today