জার্মানি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার ‘অনুমেয়’, ব্যাখ্যা চাইছে ন্যাটো

জার্মানি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার ‘অনুমেয়’, ব্যাখ্যা চাইছে ন্যাটো
শেয়ার করুন

❐ আন্তর্জাতিক ডেস্ক


জার্মানি থেকে প্রায় পাঁচ হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে “অনুমেয়” বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস। একই সঙ্গে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থা (ন্যাটো)।

জার্মান সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পিস্টোরিয়াস বলেন, ইউরোপে—বিশেষ করে জার্মানিতে—মার্কিন সেনাদের উপস্থিতি জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ের স্বার্থেই গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমানে জার্মানিতে ৩৬ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে, যা ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক উপস্থিতি। এই সংখ্যা কমে গেলে জোটের সামরিক সক্ষমতা ও কৌশলগত ভারসাম্যে প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ন্যাটোর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের বিস্তারিত বোঝার জন্য জোটটি কাজ করছে। তিনি বলেন, এই পদক্ষেপ ইউরোপীয় দেশগুলোর জন্য প্রতিরক্ষা খাতে আরও বেশি দায়িত্ব নেওয়ার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে নিয়ে এসেছে।

এই সিদ্ধান্তের পেছনে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক উত্তেজনাও ভূমিকা রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মারৎসের মধ্যে ইরান ইস্যুতে মতবিরোধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এদিকে, ন্যাটোর ভেতরেও উদ্বেগ বাড়ছে। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক সতর্ক করে বলেছেন, জোটের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি বাইরের নয়, বরং অভ্যন্তরীণ বিভাজন।

যুক্তরাষ্ট্রের দুই শীর্ষ আইনপ্রণেতাও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, ইউরোপে শক্তিশালী সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখা যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থের জন্য জরুরি।

অন্যদিকে, জার্মানি ইতোমধ্যে তার প্রতিরক্ষা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। ২০২৭ সালের মধ্যে দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যয় মোট দেশজ উৎপাদনের ৩ শতাংশের বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, আগামী ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে ধাপে ধাপে এই সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু সামরিক পুনর্বিন্যাস নয়; এটি ইউরোপ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক এবং ন্যাটো জোটের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনার ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।

Visited 8 times, 1 visit(s) today