বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তকে একটি রাজনৈতিক চাল হিসেবে দেখছেন দেশসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। তার মতে, ওই সময় মানুষের আবেগকে পুঁজি করে ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করেছে তৎকালীন সরকার ও সংশ্লিষ্টরা।
সম্প্রতি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে সাকিব জানান, বিশ্বকাপে না খেলাটা ছিল একটি বিশাল ‘ব্লান্ডার’। তিনি মনে করেন, আইপিএল থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ইস্যুটি দুই দেশের বোর্ডের আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা যেত। কিন্তু সেটি না করে বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে নেওয়া হয়েছে।
সাকিব বলেন, ‘এটি তাদের ঘরোয়া টুর্নামেন্ট, তারা যে কোনো সিদ্ধান্ত নিতেই পারে। সমস্যা লেগেছে তাদের সঙ্গে, আর আমি যুদ্ধ লাগিয়ে দিলাম আইসিসির সঙ্গে—এটা তো কাজের কথা হলো না। এখানে পলিটিক্যাল গেম খেলা হয়েছে।’
তৎকালীন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘বোর্ড এখানে শক্ত অবস্থান নিতে পারত, যা তারা নেয়নি। বোর্ডের দায়িত্ব ছিল সরকারকে বোঝানো যে, বিশ্বকাপে না গিয়ে আমরা নিজেদের ক্ষতি করতে পারি না। বুলবুল ভাই কেন এসব করেননি, জানি না।’ সাকিবের ধারণা, বিশ্বকাপে না যাওয়ার ফলেই হয়তো আমিনুল ইসলামকে সভাপতির পদ হারাতে হয়েছে।
ক্রিকেটীয় সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ক্রিকেট বোর্ডের তো কারও শত্রু হওয়ার প্রয়োজন নেই। অবশ্যই আমরা হাত কচলাব না, নতজানু হব না, তবে শত্রু কেন বানাব? আমার এত বছরের ক্যারিয়ারে প্রথমবার দেখলাম আমাদের ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে অন্য কোনো বোর্ডের ঝামেলা।’
দেশের মানুষের আবেগ নিয়ে অপরাজনীতির সমালোচনা করে সাকিব প্রশ্ন তোলেন, দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় পণ্য বা চিকিৎসার জন্য ভারতের ওপর নির্ভরতা থাকলেও কেবল ক্রিকেটের বেলাতেই কেন কট্টর অবস্থান নেওয়া হলো। তিনি মনে করেন, ক্রিকেটে ভারত সফর থেকে আসা আয় বোর্ডের বিশাল বাজেটের জোগান দেয়। তাই দেশপ্রেমের দোহাই দিয়ে স্রেফ লোক দেখানো কথা না বলে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের মাধ্যমে নিজের দেশের ভালো বোঝাটা বেশি জরুরি ছিল।
