বিডি ডাইজেস্ট প্রতিবেদন
বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা ও বার নির্বাচনগুলোতে রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং এর ফলে সৃষ্ট অস্থিতিশীলতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনা বাড়ছে। বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াতপন্থি আইনজীবীদের কর্মকাণ্ড এবং বার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অনভিপ্রেত পরিস্থিতি এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজরে। সম্প্রতি ইউরোপের আইনজীবীদের সর্বোচ্চ সংগঠন CCBE-এর উদ্বেগ সেই সংকটকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আইনজীবীদের প্রধান কাজ বিচারপ্রার্থী মানুষের পক্ষে আইনি লড়াই করা। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিএনপি ও জামায়াতপন্থি আইনজীবীদের বড় একটি অংশ পেশাগত দায়িত্বের চেয়ে দলীয় রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে বেশি সক্রিয়। ঢাকা বার কাউন্সিল ও জেলা বার নির্বাচনগুলোকে তারা রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের ময়দান হিসেবে ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ইউরোপীয় আইনজীবী সংগঠনের চিঠিতে জেলা বার নির্বাচনগুলোতে বাধা, হয়রানি এবং বিশৃঙ্খলার চিত্র উঠে এসেছে। এর পেছনে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে আইনজীবীদের মাত্রাতিরিক্ত রাজনৈতিক বিভাজন। সাধারণ আইনজীবীদের মতে, বিএনপি-জামায়াতপন্থি আইনজীবীদের একটি অংশ প্রায়ই আদালতের স্বাভাবিক কাজকর্মে বাধা সৃষ্টি করছে। দলীয় আনুগত্যের ভিত্তিতে আইনজীবী প্যানেল তৈরি করায় মেধাবী ও নিরপেক্ষ আইনজীবীরা কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন।
নির্বাচন কেন্দ্র করে হট্টগোল ও শারীরিক লাঞ্ছনার মতো ঘটনা বারগুলোর দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যকে ক্ষুণ্ণ করছে।
CCBE-এর চিঠিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে যেভাবে সতর্ক করা হয়েছে, তা দেশের আইনি ভাবমূর্তির জন্য বড় ধাক্কা। বিএনপি-জামায়াতপন্থি আইনজীবীদের একাংশের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে নেতিবাচক প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, আইনজীবীদের নিজেদের মধ্যেই যদি গণতান্ত্রিক সহনশীলতা না থাকে, তবে তারা কীভাবে সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা করবেন?
সাধারণ বিচারপ্রার্থীদের মতে, আইনজীবীরা যখন সরাসরি রাজনৈতিক দলের ক্যাডার হিসেবে কাজ করেন, তখন আদালতের পবিত্রতা নষ্ট হয়। বিএনপি ও জামায়াতপন্থি আইনজীবীদের উচিত রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে আইনি পেশার মর্যাদা রক্ষা করা। আন্তর্জাতিক মহলের এই উদ্বেগ থেকে শিক্ষা নিয়ে বার নির্বাচনগুলোতে স্বচ্ছতা এবং পেশাদারিত্ব ফিরিয়ে আনাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
আইনজীবী মানেই সমাজের দর্পণ। কিন্তু রাজনীতির এই অতি-চর্চা যদি বন্ধ না হয়, তবে বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মহলে আরও বেশি প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে। রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ভুলে বার নির্বাচনকে পুনরায় সাধারণ আইনজীবীদের মিলনমেলায় পরিণত করা সময়ের দাবি।
