স্থানীয় প্রতিনিধি
নোয়াখালী প্রতিনিধি: নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদীতে ২৭ এপ্রিল, সোমবার সকালে এক নজিরবিহীন ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। অটোরিকশায় মাইক বেঁধে দেশে বর্তমান তেল, গ্যাস, জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও টিকা সংকটসহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে স্লোগান দেওয়ার সময় এক যুবক স্থানীয় বিএনপি-জামায়াতের সৃষ্ট মব কর্তৃক গণপিটুনির শিকার হয়েছেন।
সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শহরের প্রাণকেন্দ্র টাউনহল মোড় এলাকায় বিএনপি জামায়াতের নেতা-কর্মীরা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে দেশ ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে স্লোগান শুনতে পান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অটোরিকশাটির ওপরে দুটি বড় মাইক বাঁধা ছিল এবং ভেতর থেকে এক যুবক মাইকে চিৎকার করে বলছিলেন— ‘তেল দে গ্যাস দে-নইলে গদি ছাইড়া দে, বিদ্যুৎ দে টিকা দে-নইলে গদি ছাইড়া দে’, ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’, ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’।
অটোরিকশাটি পৌর বাজার এলাকা থেকে সুধারাম থানার দিকে যাওয়ার পথে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে পৌঁছালে ওই যুবক গাড়ি থেকে নেমে সড়কে দাঁড়িয়ে স্লোগান দিতে শুরু করেন। এই সময় স্থানীয় বিএনপি জামায়াতের ২০-২৫ জন নেতা-কর্মী মিলে তাঁকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলেন। যুবকটি স্লোগান দেওয়ার চেষ্টা করলে তাঁকে অটোরিকশা থেকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে মারধোর দেয়। সাথে অটোরিকশাচালককেও চড়থাপ্পড় দেওয়া হয়।
বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীরা অটোরিকশা থেকে মাইক দুটি খুলে নেয় এবং অ্যামপ্লিফায়ারটি কেড়ে নেয়। গণপিটুনির পর যুবক ও চালককে ছেড়ে দেওয়া হলেও মাইক ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জামগুলো স্থানীয়রা রেখে দেন। খবর পেয়ে সুধারাম মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রচারণায় ব্যবহৃত সরঞ্জামগুলো জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।
সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “উক্ত যুবকের নাম-পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে আমরা তাঁকে শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছি। ঘটনার পরপরই পুলিশ মাইক ও অ্যামপ্লিফায়ার জব্দ করেছে। বর্তমানে শহরের পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।”
স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, এভাবে একটা ছেলেকে দেশের বর্তমান সংকট নিয়ে ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের স্লোগান দেওয়ায় টেনেহিঁচড়ে এভাবে মারাটা খুবই নিন্দনীয়। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।
