বন্ধ বড়পুকুরিয়ায় শেষ সচল ইউনিটটিও: তীব্র বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে দেশ

বন্ধ বড়পুকুরিয়ায় শেষ সচল ইউনিটটিও: তীব্র বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে দেশ
শেয়ার করুন

❐ নিজস্ব প্রতিবেদক


দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের একমাত্র সচল ইউনিটটিও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে তিন ইউনিটের এই কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে।

বুধবার রাত ১০টা ১০ মিনিটে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ১ নম্বর ইউনিটটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলের অন্তত ৮ জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন দেখা দিয়েছে।

গতকাল বিকেল ৪টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করে কেন্দ্রটির প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, কয়লার সঙ্গে পাথর মিশে আসায় বয়লার পাইপ ফেটে যায় এবং কুলিং ফ্যান ভেঙে পড়ে। এতে করে ইউনিটটি হঠাৎ বিকল হয়ে পুরো কেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।

তিনি বলেন, বর্তমানে মেরামত কাজ চলছে এবং পুনরায় উৎপাদন শুরু করতে অন্তত ৪ থেকে ৫ দিন সময় লাগতে পারে। এর আগে থেকেই কেন্দ্রটির ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ২ নম্বর ইউনিট এবং ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৩ নম্বর ইউনিট দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে।

বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ওপর নির্ভর করে ২০০৬ সালে এই কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি গড়ে তোলা হয়। শুরুতে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট স্থাপন করা হয়। পরে ২০১৭ সালে আরও একটি ২৭৫ মেগাওয়াট ইউনিট যুক্ত হওয়ায় মোট উৎপাদন সক্ষমতা দাঁড়ায় ৫২৫ মেগাওয়াটে। তবে নানা কারিগরি সমস্যার কারণে কেন্দ্রটি কখনোই পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারেনি।

বর্তমানে ২৭৫ মেগাওয়াটের তৃতীয় ইউনিটটি ২০২৪ সালের ১ নভেম্বর থেকে এবং ১২৫ মেগাওয়াটের দ্বিতীয় ইউনিটটি ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে বন্ধ রয়েছে। প্রথম ইউনিটটি গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর বন্ধ হয়ে গেলেও ১৪ জানুয়ারি পুনরায় চালু করা হয়। কিন্তু কয়েক মাস চলার পর আবারও ২২ এপ্রিল রাতে সেটি বন্ধ হয়ে যায়, ফলে কেন্দ্রটির উৎপাদন এখন পুরোপুরি বন্ধ।

এদিকে জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলেও উত্তরাঞ্চলের চাহিদা পূরণে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় এবং জাতীয় গ্রিড থেকেও পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ না পাওয়ায় সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

গত এক সপ্তাহ ধরে ৩৫ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ভ্যাপসা গরমে নাজেহাল জনজীবন। এর মধ্যে ঘনঘন লোডশেডিং পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে। সকাল, ভোর কিংবা গভীর রাত—সব সময়ই চলছে বিদ্যুৎ বিভ্রাট।

Visited 9 times, 1 visit(s) today