হাইতিতে মোতায়েন বিদেশি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের একাধিক অভিযোগ উঠে এসেছে জাতিসংঘের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে।
ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে চারটি পৃথক ঘটনার তদন্তের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে, যার মধ্যে একটি ১২ বছর বয়সী শিশুকে ঘিরে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে হাইতিতে কার্যরত মাল্টিন্যাশনাল সিকিউরিটি সাপোর্ট (এমএসএস) মিশনের সদস্যদের বিরুদ্ধে চারটি যৌন শোষণ ও নির্যাতনের অভিযোগ পায় জাতিসংঘ। তদন্ত শেষে সবগুলো অভিযোগই প্রমাণিত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে তিনজনই শিশু, যাদের ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। চতুর্থ ভুক্তভোগীর বয়স ১৮ বছর, যিনি যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর (ওএইচসিএইচআর) এসব ঘটনার তদন্ত সম্পন্ন করে। পরবর্তীতে মামলাগুলো এমএসএস এবং এর উত্তরসূরি সংস্থা গ্যাং সাপ্রেশন ফোর্স (জিএসএফ)-এর কাছে পাঠানো হয়েছে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য।
উল্লেখ্য, কেনিয়ার নেতৃত্বাধীন এবং যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত এমএসএস মিশনটি গত বছর জিএসএফ-এ রূপান্তরিত হয়, যার লক্ষ্য ছিল দেশটির সশস্ত্র গ্যাং দমন করা। সম্প্রতি চাদের সেনারাও এই মিশনে যোগ দিয়েছে।
জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টেফান দুজারিক জানিয়েছেন, প্রতিবেদনটি জিএসএফ-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে, তবে এই মিশনটি সরাসরি জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত নয়।
হাইতির জন্য জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ উইলিয়াম ও’নিল বলেন, “চারটি ঘটনা মানেই চারটি অতিরিক্ত ঘটনা। প্রতিটি অভিযোগের স্বাধীন তদন্ত এবং প্রমাণ পেলে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। স্বচ্ছতা থাকতে হবে এবং দায়মুক্তির কোনো সুযোগ থাকা উচিত নয়।”
প্রতিবেদনটি এমএসএস মিশনের ব্যর্থতার বিষয়টিও আবার সামনে এনেছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে মিশনটি শেষ হওয়ার আগে এক বছর ধরে এটি স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে কাজ করলেও গ্যাং সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি।
২০২১ সালে প্রেসিডেন্ট জোভেনেল মোইজ হত্যার পর থেকেই হাইতি গভীর সংকটে নিমজ্জিত। রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সের বড় অংশ এখনো গ্যাংদের নিয়ন্ত্রণে। অপহরণ, হত্যা এবং সাধারণ মানুষের বাস্তুচ্যুতি অব্যাহত রয়েছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, শুধু ২০২৪ সালের প্রথম পাঁচ মাসেই ২,৬৮০ জন নিহত হয়েছে এবং ১৩ লাখের বেশি মানুষ তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবা খাতও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সহিংসতার কারণে অনেক হাসপাতাল বন্ধ হয়ে গেছে এবং ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, হাইতিতে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনীর বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ নতুন নয়। এর আগে ২০১০ সালের ভূমিকম্পের পর মোতায়েন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের বিরুদ্ধেও স্থানীয় নারীদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে সন্তান রেখে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল।
সর্বশেষ এই প্রতিবেদন হাইতিতে আন্তর্জাতিক বাহিনীর ভূমিকা এবং জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
