মনোনয়ন বঞ্চিতদের নিয়ে নারী দিবসে নয়া সংগঠনের আত্মপ্রকাশ: জামায়াতবন্ধব এনসিপির নারীবান্ধব হওয়ার প্রয়াস

মনোনয়ন বঞ্চিতদের নিয়ে নারী দিবসে নয়া সংগঠনের আত্মপ্রকাশ: জামায়াতবন্ধব এনসিপির নারীবান্ধব হওয়ার প্রয়াস
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে জাতীয় নাগরিক পার্টি  (এনসিপি) আজ ‘জাতীয় নারীশক্তি’ নামে একটি নতুন নারী সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘোষণা করেছে। জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন বঞ্চিত নারী সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে এই সংগঠন গঠনের মাধ্যমে দলটি নিজেকে নারীবান্ধব প্রমাণের চেষ্টা করছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এই উদ্যোগ এসেছে এমন সময়ে, যখন এনসিপির বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাথে জোট গঠনের পর দলের বেশ কয়েকজন নারী নেত্রী পদত্যাগ করেছেন।

ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দলটি জামায়াতের সাথে একটি ১০ দলীয় জোট গঠন করে, যা দলের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে নারী সদস্যরা জামায়াতকে নারীবিরোধী ও রক্ষণশীল হিসেবে দেখে এই জোটের বিরোধিতা করেন। ফলে দল গঠনের সাথে জড়িত কয়েকজন প্রভাবশালী নারী নেত্রী, যেমন তাসনিম জারা, তাজনুভা জাবীন প্রমুখ, পদত্যাগ করে নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেন বা দলত্যাগ করেন।

জামায়াতের সাথে জোট ঘোষনা পরের আট দিনে দলের ১৩ জন কেন্দ্রীয় নেতা পদত্যাগ করেছেন, যাদের অধিকাংশই জামায়াত জোটকে দায়ী করেছেন। জামায়াতের নেতৃত্বে এই জোটে নারী প্রার্থীদের মনোনয়ন না দেওয়া এবং জামায়াত আমীর ড. শফিকুর রহমানের নারীদের লিডারশিপে অযোগ্য বলে মন্তব্য নারী অধিকারকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

এনসিপির নারী নেত্রীরা বলেছিলেন, জামায়াতের মতো রক্ষণশীল দলের সাথে জোট নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণকে কঠিন করে তুলবে। ফলে দলের অনেক নারী সদস্য অসন্তুষ্ট হয়ে পদত্যাগ করেছেন, যা দলের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

এই প্রেক্ষাপটে আজ নারী দিবসে ‘জাতীয় নারীশক্তি’র আত্মপ্রকাশ ঘোষণা করে এনসিপি অবশিষ্ট নারী সদস্যদের একত্রিত করার চেষ্টা করছে। সংগঠনটির লক্ষ্য নারীদের রাজনৈতিক সশক্তিকরণ, অধিকার রক্ষা এবং দলে নারীদের ভূমিকা বাড়ানো। দলের এক নেতা বলেন, “এটি আমাদের নারীবান্ধব নীতির প্রমাণ। মনোনয়ন বঞ্চিত নারীদের নিয়ে আমরা নতুন করে শুরু করছি।”

সংগঠনে আহ্বায়ক হিসাবে নিযুক্ত হয়েছেন মনিরা শারমিন, সদস্য সচিব মাহমুদা মিতু ও মুখ্য সংগঠক নুসরাত তাবাসসুম। উপস্থিতদের মধ্যে ডাকসুর শিবির প্যানেলের নেত্রী ও ইনকিলাব মঞ্চের ফাতেমা তাসনিম জুমা কে উপস্থিত দেখা যায়। প্রধান অতিথি হিসাবে ছিলেন এনসিপির নাহিদ ইসলাম ও সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। এনসিপির সর্বশেষ ও প্রধান সংগঠক, নারী নেত্রী সামান্থা শারমিনকে আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে দেখা যায় নি।

তবে সমালোচকরা বলছেন, এটি কেবল জামায়াত জোটের পর সৃষ্ট সংকট মোকাবিলার একটি কৌশল মাত্র। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এনসিপির এই উদ্যোগ দলের অভ্যন্তরীণ বিভেদ কমাতে সাহায্য করতে পারে, কিন্তু জামায়াতের সাথে জোটের কারণে নারী ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ থেকে যাবে। নির্বাচনের আগে এই ঘটনা দলের ইমেজের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

Visited 6 times, 1 visit(s) today