বাংলাদেশবিরোধী প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি. মাইলাম আর নেই

বাংলাদেশবিরোধী প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি. মাইলাম আর নেই
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি. মাইলাম আর নেই। তিনি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সবচেয়ে উচ্চকিত কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত ছিলেন, যাকে অনেকে ‘ডিপ স্টেট’-এর প্রতিনিধি হিসেবে অভিহিত করেন। মাইলাম বাংলাদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন ১৯৯০-১৯৯৩ সালে।

পরবর্তীকালে তিনি পাকিস্তানে (১৯৯৮-২০০১) রাষ্ট্রদূত ছিলেন এবং উড্রো উইলসন সেন্টারে সিনিয়র পলিসি স্কলার হিসেবে কাজ করেছেন।

মাইলামের নাম বিশেষভাবে উঠে আসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন, গণতন্ত্রহীনতা এবং স্যাংশন আরোপের দাবিতে। তিনি ‘Right to Freedom’ নামক একটি অলাভজনক সংস্থার প্রেসিডেন্ট ছিলেন, যা বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক সংস্কার এবং মানবাধিকারের পক্ষে কাজ করে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি বাংলাদেশ সফরে ভিসা না পাওয়ার অভিযোগ করেছিলেন এবং শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন, রাজনৈতিক দমন এবং গণতন্ত্রহীনতার অভিযোগ তুলে স্যাংশনের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন।

২০২২ সালে তিনি একটি নিবন্ধে বাংলাদেশের ওপর মানবাধিকার স্যাংশনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। অনেকে তাঁকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ‘প্রোপাগান্ডা’ ছড়ানোর অন্যতম কেন্দ্রীয় ব্যক্তি হিসেবে দেখেন, যা বিএনপি-জামায়াতের লবিংয়ের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ উঠেছে।

মাইলামের সঙ্গে ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (IRI)-এর সরাসরি যোগসূত্র না থাকলেও, তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিয়ে কাজ করেছেন। কিছু সূত্রে তাঁকে NED (National Endowment for Democracy)-এর মাধ্যমে অর্থায়িত ‘Right to Freedom’-এর নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত করে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তোলা হয়েছে। তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে লেখালেখি করেছেন, যেখানে আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা প্রধান ছিল। কিছু প্রতিবেদনে তাঁকে ‘ডিপ স্টেট’-এর অংশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যারা বাংলাদেশে রেজিম চেঞ্জের পক্ষে কাজ করেছেন বলে দাবি করা হয়।

প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত মাইলামের মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। তাঁর মৃত্যুর তারিখ ও কারণ এখনো বিস্তারিতভাবে জানা যায়নি, তবে তাঁর কর্মকাণ্ড বাংলাদেশ-মার্কিন সম্পর্কের একটি বিতর্কিত অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় থাকবে।

Visited 59 times, 1 visit(s) today