নিজস্ব প্রতিবেদক
ইউক্রেনে রাশিয়ার পক্ষে যুদ্ধ করতে গিয়ে নিহত উত্তর কোরীয় সেনাদের পরিবারগুলোর জন্য রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে একটি নতুন আবাসিক এলাকা নির্মাণ করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরকার তথাকথিত “যুব শহীদদের” আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানাচ্ছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ছবিতে দেখা গেছে, উত্তর কোরিয়ার নেতা Kim Jong Un নতুন নির্মিত আবাসন এলাকার উদ্বোধন করছেন এবং সেখানে বসবাসকারী পরিবারগুলোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন তার কন্যা কিম জু অ্যায়ে, যাকে সাম্প্রতিক সময়ে আরও ঘন ঘন জনসমক্ষে দেখা যাচ্ছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষে লড়াই করতে গিয়ে প্রায় ছয় হাজার উত্তর কোরীয় সেনা নিহত বা আহত হয়েছেন। যদিও এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে কিম জং উন বলেন, “মাতৃভূমির জন্য নিজেদের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ উৎসর্গকারী শ্রেষ্ঠ সন্তানদের পরিবার যেন সম্মানের সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারে—এই আকাঙ্ক্ষা থেকেই এই নতুন সড়ক ও আবাসন গড়ে তোলা হয়েছে।”
গত কয়েক মাসে উত্তর কোরিয়া রাশিয়ায় হাজার হাজার সেনা ও বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম পাঠিয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গোলাবারুদ, আর্টিলারি ও ক্ষেপণাস্ত্র।
একই সঙ্গে, বিদেশে যুদ্ধরত সেনাদের বীরত্ব তুলে ধরতে উত্তর কোরিয়ায় প্রচার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ, স্মরণিকা প্রাচীর স্থাপন এবং একটি জাদুঘর তৈরির কাজও চলছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দাদের ধারণা, রাশিয়ার সঙ্গে এই সহযোগিতার বিনিময়ে উত্তর কোরিয়া আধুনিক যুদ্ধকৌশল সম্পর্কে অভিজ্ঞতা ও কারিগরি সহায়তা পাচ্ছে, যা তাদের নিজস্ব অস্ত্রব্যবস্থার উন্নয়নে কাজে লাগতে পারে।
নতুন আবাসন এলাকার উদ্বোধন এমন এক সময়ে হলো, যখন দেশটি মাসের শেষ দিকে গুরুত্বপূর্ণ দলীয় কংগ্রেস আয়োজন করতে যাচ্ছে। ওই সম্মেলনে কিম জং উনের আগামী পাঁচ বছরের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতির দিকনির্দেশনা ঘোষণা করার কথা রয়েছে।
