বাড়িঘর-ব্যবসা রক্ষায় ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধ্য হচ্ছেন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা, কিন্তু গেলেও…

বাড়িঘর-ব্যবসা রক্ষায় ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধ্য হচ্ছেন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা, কিন্তু গেলেও…
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

খুলনার কয়রা উপজেলার যুবলীগ কর্মী এমদাদ হোসেনকে (ছদ্মনাম) ভোট কেন্দ্রে যেতে বাধ্য করেছেন স্থানীয় জামাত নেতাকর্মীরা। ভোট কেন্দ্রে না গেলে কয়রার আমাদী বাজারে অবস্থিত তার ব্যবসাকেন্দ্র জ্বালিয়ে দেয়ার হুমকি পেয়েছেন তিনি। তবে তিনি কেন্দ্রে গেলেও কোন ভোট দেননি। ব্যালটে নৌকা ছাড়া কিসের ভোট লিখে ছবি তুলে নিয়ে এসেছেন। পাশাপাশি না ভোট দিয়েছেন।

এটা শুধু যুবলী কর্মী এমদাদের চিত্র নয়, সারা দেশের বেশিরভাগ জেলাতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এভাবেই ভোটের দিন পার করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অধিকাংশ আসনগুলোতে চিহ্নত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ভোট দেয়ার জন্য বিএনপি ও জামাত থেকে চাপপ্রয়োগ করা হচ্ছে। যারা ভোট না দিতে চাইছেন তাদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান জ্বালিয়ে দেয়ার হুমকি দেয়া হচ্ছে।

অনেকে এলাকা থেকে বিতাড়ন করা হবে বলেও অভিযোগ উঠছে।

খুলনার কয়রা উপজেলার যুবলীগ কর্মী এমদাদ হোসেন (ছদ্মনাম) বিডি ডাইজেস্টকে বলেন, সকালে স্থানীয় শিবিরের এক সাথী তাদের আমিরের নির্দেশনায় আমার বাড়িতে আসেন। এসে সরাসরি বলেন যে ভোট দিতে হবে, না দিলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আজ রাতেই পুড়িয়ে দেয়া হবে।

ভোটের প্রমাণ স্বরুপ ছবি তুলে আনতে বলা হয়েছে তাকে।

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ সদর উপজেলার আওয়ামী লীগ কর্মী নিত্যানন্দ দাশ বলেন, আমাকে সরাসরি বলা হয়েছে ভোট না দিলে দেশ থেকে ভারতে তাড়িয়ে দেবে। আমি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ব্যালট পেপার নষ্ট করেছি। তবুও এই অসংবিধানিক সরকারের ভোটে কাউকে ভোট দেইনি। তবে না ভোট দিয়েছি।

তবে গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুরসহ আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত এলাকার চিত্র সম্পন্ন ভিন্ন। এসব এলাকায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে জনগণ ভোট বর্জন করেছেন। ভোট কেন্দ্রগুলোতে মানুষের উপস্থিতি সারাদিনব্যাপী লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগের ভোটাররা কেন্দ্রে গিয়ে ব্যালটে নৌকা এঁকে, জয় বাংলা লিখে তার ছবি ছড়িয়ে দিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। একে তারা নির্বাচন বয়কটের প্রতীকী অবস্থান হিসেবে জানান দিয়েছেন।

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ব্যালট পেপারে নির্ধারিত প্রতীকের বাইরে কিছু লেখা হলে ভোট বাতিল হয়। নির্বাচন কর্মকর্তারা ভোটারদের নিয়ম মেনে ভোট দেওয়ার জন্য সতর্ক করেছেন।

নির্বাচন বিশ্লেষকরা মনে করাচ্ছেন, দীর্ঘদিন ধরে ভোটারদের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট প্রতীকের সঙ্গে আবেগগত সংযোগ তৈরি হলে প্রতীক অনুপস্থিত থাকলে প্রতীকী প্রতিবাদ দেখা দিতে পারে। তবে এর প্রভাব সামগ্রিক ফলাফলে কতটা পড়বে, তা নির্ভর করছে ভোটার উপস্থিতি ও স্থানীয় রাজনৈতিক বাস্তবতার ওপর।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুবদলের একজন সিনিয়র নেতা বলেন, “আমাদের কর্মী-সমর্থকরা জানেন, নৌকা ছাড়া ভোট অর্থহীন। তাছাড়া আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ রয়েছে ভোট বর্জনের। অথচ ভোটকেন্দ্রে না গেলে অনেকেই স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিহিংসার শিকার হতে পারেন। সেই ঝামেলা এড়াতেই অনেকেই বাধ্য হচ্ছেন ভোটকেন্দ্রে যেতে। তবে কেন্দ্রে গেলেও ভোট দেননি তারা অন্য প্রতীকে। এভাবেই তারা ভোট বর্জন করেছেন।”

Visited 11 times, 1 visit(s) today