নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপাচার্য কার্যালয় সংলগ্ন অধ্যাপক আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে এই ঘোষণা দেওয়ায় রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করে অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান বলেন, “আমি সরে দাঁড়াচ্ছি, যেন নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার তাদের নিজেদের মতো করে প্রশাসন সাজাতে পারে।” তিনি আরও জানান, ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সংকটকালীন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চালু রাখতে তিনি এ দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।
এখন সেই সংকটকালীন সময় শেষ হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে হঠাৎ কোনো শূন্যতা তৈরি না হয়, সেজন্য পরবর্তী সরকার গঠনের আগ পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের বিষয়টি বিবেচনা করবেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে, গত কয়েকদিনে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মামনুন রহমান ও নাইমা হায়দারের পদত্যাগের পর এই ঘোষণা এসেছে। বিচারপতিদের পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়েছে বলে সুপ্রিম কোর্ট সূত্রে জানা গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও পর্যবেক্ষকদের মধ্যে এসব পদত্যাগকে নির্বাচন-উত্তর পরিস্থিতির সাথে যুক্ত করে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে, নির্বাচনের ফলাফল যদি প্রত্যাশিত না হয় বা বিতর্কিত হয়, তাহলে নির্বাচন-উত্তর সহিংসতা, অস্থিরতা বা রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে। তারা বলছেন, এমন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের (বিচার বিভাগ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান) পদত্যাগ বা সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
নির্বাচনের আগে এ ধরনের ঘটনা জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, এবং নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সহিংসতা বা অরাজকতার সম্ভাবনা নিয়ে আশঙ্কা বাড়িয়েছে।
ঢাবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই ঘোষণা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ এটিকে স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের অংশ বলে মনে করছেন, আবার অনেকে বলছেন যে নির্বাচনের এমন সংবেদনশীল সময়ে এ ধরনের সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে প্রভাবিত করতে পারে। উল্লেখ্য, অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খানকে ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট ঢাবির উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
