আমিরাত–ভারত প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব আনুষ্ঠানিকতার পথে; ২০৩২ সালের মধ্যে ২০০ বিলিয়ন ডলার বাণিজ্য লক্ষ্যমাত্রা

আমিরাত–ভারত প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব আনুষ্ঠানিকতার পথে; ২০৩২ সালের মধ্যে ২০০ বিলিয়ন ডলার বাণিজ্য লক্ষ্যমাত্রা
শেয়ার করুন

সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও ভারত প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে আনুষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে একটি ‘লেটার অব ইনটেন্ট’ স্বাক্ষর করেছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব গঠনের পথ খুলে গেল, যা বিদ্যমান ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে আরও জোরদার করবে।

সোমবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ইউএই প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান-এর দুই ঘণ্টার সরকারি সফরকালে এই লেটার অব ইনটেন্ট স্বাক্ষরিত হয়। এ সময় তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, জ্বালানি, বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন। আমিরাতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ডব্লিউএএম এ তথ্য জানিয়েছে।

এই লেটার অব ইনটেন্ট ভবিষ্যতে একটি কাঠামোগত প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের ভিত্তি তৈরি করবে, যার মাধ্যমে সামরিক সহযোগিতা, কৌশলগত সংলাপ এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে যৌথ উদ্যোগ আরও গভীর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ইউএই ও ভারতের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার হয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর আবুধাবি সফর এবং ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে দুই দেশের সেনাবাহিনীর যৌথ সামরিক মহড়া এই সহযোগিতারই প্রতিফলন।

তবে ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি সাংবাদিকদের জানান, এই উদ্যোগের অর্থ এই নয় যে ভারত আঞ্চলিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়বে। তিনি বলেন, “প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা মানেই আঞ্চলিক সংঘাতে জড়ানো—এমন কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়।”

এই প্রতিরক্ষা উদ্যোগ এমন এক সময়ে এলো, যখন গত বছরের সেপ্টেম্বরে সৌদি আরব ও পাকিস্তান—ভারতের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী—একটি কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। একই সঙ্গে ইয়েমেন ইস্যুতে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউএই ও সৌদি আরবের মধ্যে কিছুটা টানাপোড়েনও দেখা দিয়েছে।

প্রতিরক্ষা ছাড়াও সফরকালে জ্বালানি ও বাণিজ্য খাতে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। শেখ মোহাম্মদ ও প্রধানমন্ত্রী মোদি ৩ বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তির সাক্ষী হন, যার আওতায় আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির (এডনক) সহযোগী প্রতিষ্ঠান এডনক গ্যাস আগামী ১০ বছর ধরে প্রতি বছর ৫ লাখ মেট্রিক টন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ভারতের হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়ামকে সরবরাহ করবে। এর ফলে ভারত ইউএইর সবচেয়ে বড় এলএনজি গ্রাহকে পরিণত হলো।

দুই নেতা ২০২২ সালে স্বাক্ষরিত ইউএই–ভারত সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সিইপিএ) নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেন। এই চুক্তির আওতায় ২০২৪–২৫ অর্থবছরে দুই দেশের মধ্যে তেলবহির্ভূত বাণিজ্য ১০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। উভয় পক্ষ ২০৩২ সালের মধ্যে এই বাণিজ্য দ্বিগুণ করে ২০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার বিষয়ে একমত হয়েছে।

গত কয়েক বছরে ইউএই–ভারত সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে। ২০২৩–২৪ অর্থবছরে ইউএই ছিল ভারতের ষষ্ঠ বৃহত্তম বিদেশি বিনিয়োগকারী দেশ, যেখানে বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল আনুমানিক ২০ থেকে ২১ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে ইউএই ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্যে পরিণত হয়।

এটি প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদের তৃতীয় ভারত সফর, যা দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে নতুন মাত্রা দেবে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

Visited 2 times, 1 visit(s) today