নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা, ৫ জানুয়ারি, ২০২৬: চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ২.১৯ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ২৩.৯৯ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ২৪.৫৩ বিলিয়ন ডলার। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, এই অবনতি রপ্তানি খাতের জন্য উদ্বেগজনক সংকেত বহন করছে।
বিশেষ করে ডিসেম্বর মাসে রপ্তানি আয় ১৪.২৫ শতাংশ কমে ৩.৯৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা গত বছরের ডিসেম্বরে ছিল প্রায় ৪.৬২ বিলিয়ন ডলার। এটি টানা পঞ্চম মাসের বার্ষিক হ্রাস।
ইপিবি জানায়, ডিসেম্বরে তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতের রপ্তানি, যা মোট রপ্তানির ৮৪ শতাংশের বেশি অবদান রাখে, ১৪.২৩ শতাংশ কমে ৩.২৩ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। জুলাই-ডিসেম্বরে আরএমজি রপ্তানি ২.৬৩ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ১৯.৩৭ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। যদিও নভেম্বরের তুলনায় ডিসেম্বরে রপ্তানি ১.৯৭ শতাংশ বেড়েছে, বার্ষিক হিসাবে এটি উল্লেখযোগ্য অবনতি প্রকাশ করে।
বিশ্লেষকরা এই অবনতির পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করেছেন। বিশ্বব্যাপী চাহিদা হ্রাস, যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক আরোপ, চীন ও ভারতের তীব্র প্রতিযোগিতা, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এসবের মধ্যে অন্যতম। বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতারা জানান, মার্কিন বাজারে শুল্কের প্রভাবে অর্ডার কমেছে এবং ইউরোপীয় বাজারে চীনা পণ্যের আধিক্য বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব কমিয়ে দিচ্ছে।
এছাড়া দেশীয় রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন-সংক্রান্ত নীতি পরিবর্তনও রপ্তানিকারকদের চাপে ফেলেছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের মতো প্রধান বাজারে কিছু প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে, সার্বিক চিত্র উদ্বেগজনক। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এই ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছরের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ পড়বে। রপ্তানি খাতের এই অবনতি অর্থনীতির সামগ্রিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। সরকার ও সংশ্লিষ্টদের কাছে দাবি উঠেছে দ্রুত নীতি সহায়তা ও বাজার বৈচিত্র্যকরণের।
