নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয় ঐকমত্য কমিশন যে ‘জুলাই সনদ’ তৈরি করেছে, তাকে ‘ভুয়া’ ও ‘জোচ্চুরি’ আখ্যা দিয়েছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম।
শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বাম গণতান্ত্রিক জোট ও বাংলাদেশ জাসদের আয়োজনে জাতীয় কনভেনশনে তিনি এই মন্তব্য করেন। আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে একটি তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে বামপন্থী, প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক ধারার ৯টি দলের সমন্বয়ে নতুন জোট ‘গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট’-এর ঘোষণা দিয়েছে। নতুন এই জোট আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও বিভিন্ন দাবিদাওয়ার আন্দোলনে সম্মিলিতভাবে ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছে দলগুলোর নেতারা।
প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে উদ্দেশ করে সেলিম বলেন, “ঐক্যমত্য হবে যে পয়েন্টে, সে পয়েন্ট বাদ দিয়ে আপনি অন্য পয়েন্ট নিয়ে এসে কাগজে সই করতে বললেন। আমরা বললাম, করব না। তাহলে এটাকে ঐকমত্যের সনদ বলে কীভাবে? এটা তো জোচ্চুরি, এটা ভুয়া সনদ, নকল সনদ।”
সনদ সইয়ের পরেও কয়েকটি নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ এনে তিনি বলেন, “তাহলে এটা ডাবল নকল ও ভুয়া।”
জুলাই সনদ নিয়ে সরকার যে গণভোট (‘হ্যাঁ–না’ ভোট) ঘোষণা করেছে, তাকে ‘ভুয়া’ দাবি করে সিপিবি নেতা সেলিম বলেন, “ভুয়া ‘হ্যাঁ–না’ ভোটে বাংলার জনগণ অংশগ্রহণ করবে না।”
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাম কর্মীদের ওপর হেলমেট পরে হামলার প্রসঙ্গ টেনে সেলিম প্রশ্ন তোলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশকারীরা কি ওই হামলায় যুক্ত ছিল?
তিনি বলেন, “তারা বলে—‘আমরা তো কৌশলী ছিলাম, ছাত্রলীগের মধ্যে ইনফিলট্রেট করে দুই লাখ–পাঁচ লাখ টাকা দিয়ে কমিটির সদস্য হয়ে আমরা সেখানে ছিলাম, যাতে সময়মতো পদক্ষেপ নিতে পারি।’
“অনুপ্রবেশকারীর থিওরি দিয়েছে। আমার প্রশ্ন—আপনারা যখন ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশ করেছিলেন, তখন ছাত্রলীগের হেলমেট বাহিনী আর গুন্ডা বাহিনী সেজে আমাদের কর্মীদের ওপর হামলা করেছিল যারা, তারা কারা? সেখানে আপনারাও ছিলেন নিশ্চয়ই।”
বাম দলগুলোকে একত্রে জোট গড়ে ‘বিকল্প শক্তি’ তৈরির আহ্বান জানান সেলিম। বলেন, “এটা শুধু আমাদের নির্বাচনের ভিত্তিই নয়, এটা হবে আমাদের আন্দোলন–সংগ্রাম যতদিন দাবি আদায় না হয়। আমরা ইলেকশন করব, অভ্যুত্থান করব, সংগ্রাম করব, জনজাগরণ করব, বিপ্লব করব—রাষ্ট্রক্ষমতায় গণতান্ত্রিক যুক্ত ফ্রন্টের সরকার প্রতিষ্ঠা করব।”
‘রেইনবো কোয়ালিশন’ ধারণার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, রংধনুর মতো বিভিন্ন রঙের বাম জোটগুলোকে এক প্ল্যাটফর্মে আসতে হবে; এবং তা হতে হবে “নৌকা, লাঙল, দাঁড়িপাল্লা, ধানের শীষ—এসব বাদ দিয়ে।”
তার ভাষায়, “সমাজের দ্বারা নিপীড়িত ও বঞ্চিত সকলকে নিয়ে আমরা একটি ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম গড়ব—সেটাই গণতান্ত্রিক যুক্ত ফ্রন্ট। নৌকা, লাঙল, পাল্লা, শীষ—সব সাপেরই একই বিষ।”
কনভেনশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইমেরিটাস সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, সিপিবির সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন, বাসদের উপদেষ্টা খালেকুজ্জামান, বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নূরুল আম্বিয়া, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, ঐক্য ন্যাপের সভাপতি এস এম এ সবুর, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদসহ বাম জোটের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন।
