বেরোবিতে রাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তের তোয়াক্কা না করে রাজনীতি চালিয়ে যাচ্ছে ছাত্রদল ও গুপ্ত শিবির

বেরোবিতে রাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তের তোয়াক্কা না করে রাজনীতি চালিয়ে যাচ্ছে ছাত্রদল ও গুপ্ত শিবির
শেয়ার করুন

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধের সিন্ডিকেট সিদ্ধান্ত থাকা সত্ত্বেও ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও গুপ্ত সংগঠন শিবিরের রাজনৈতিক কার্যক্রম আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ইতোমধ্যে ছাত্রদল ও শিবির তাদের কমিটি ঘোষণা করেছে।

জুলাই দাঙ্গায় শিবির কর্মী নিহত আবু সাঈদ স্মরণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৮তম সিন্ডিকেট সভা গত বছরের ২৮শে অক্টোবর ক্যাম্পাসে ছাত্র–শিক্ষক কর্মচারীদের সব ধরনের দলীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ করে। কিন্তু সিদ্ধান্তের তোয়াক্কা না করে একের পর এক রাজনৈতিক দলের কমিটি গঠিত হচ্ছে।

২৭শে নভেম্বর বিএনপির ছাত্র সংগঠন- ছাত্রদল বেরোবি শাখার নতুন ৯ সদস্যের কমিটি অনুমোদন করে। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ইয়ামিন সভাপতি এবং লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী মো. জহির রায়হান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ৯ই জুলাই যুদ্ধাপরাধী দল জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন শিবির ইংরেজি বিভাগ ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী মো. সুমন সরকারকে সভাপতি এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগের আব্দুর রাকিব মুরাদকে সেক্রেটারি করে তাদের শাখা কমিটি ঘোষণা করে।

রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাসে গুপ্ত সংগঠনের প্রকাশ্যে রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়াার বিষয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাদের দাবি, রাজনৈতিক দলগুলোর উত্থান প্রশাসনিক দুর্বলতার ফল, যা শিক্ষার পরিবেশকে অস্থির করছে।

‘গুপ্ত সংগঠন শিবির ও চাঁদাবাজ ছাত্রদল’ ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি উত্তপ্ত করছে বলেও মন্তব্য করেন তারা।

ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী হাসান শেখ বলেন, রাজনৈতিক কমিটি গঠনের উদ্যোগ শিক্ষার পরিবেশকে ঝুঁকিপূর্ণ করছে। বিশ্ববিদ্যালয় অরাজনৈতিক চরিত্র হারাচ্ছে।

সিএসই বিভাগের রিশাদ নুর বলেন, যেখানে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ, সেখানে কোন সাহসে কমিটি ঘোষণা করা হয়? প্রশাসন যদি কঠোর ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি কখনোই থামবে না।

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রান্ত সরকার মন্তব্য করেন, বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞানের স্থান, কোনো দলের আধিপত্যের নয়। সিন্ডিকেট সিদ্ধান্ত অমান্য করলে বিভাজনই বাড়বে।

মার্কেটিং বিভাগের আলিফ আর-রহমান স্বপ্নীল বলেন, এই ধরনের কমিটি শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বিপন্ন করে। আমরা নিরপেক্ষ শিক্ষাঙ্গন চাই।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী জানান, শিবির কমিটি ঘোষণার পর প্রশাসন তাদের ডেকে সতর্ক করেছে এবং তারা ক্যাম্পাসের বাইরে থাকবেন বলে অঙ্গীকার করেছেন।

তিনি বলেন, ছাত্রদলের কমিটি ঢাকায় বসেই করা হয়েছে। আশা করছি তারা সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত সম্মান করবে। কেউ নিয়ম ভঙ্গ করলে শৃঙ্খলা কমিটি ও সিন্ডিকেট প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

Visited 7 times, 1 visit(s) today