আগামী এক দশকের মধ্যেই ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা সীমা অতিক্রমের শঙ্কা

আগামী এক দশকের মধ্যেই ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা সীমা অতিক্রমের শঙ্কা
শেয়ার করুন

জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি (ইউএনইপি) তাদের সর্বশেষ ইমিশনস গ্যাপ রিপোর্ট-এ সতর্ক করেছে যে, বর্তমান জলবায়ু অঙ্গীকারগুলো বাস্তবায়ন হলেও এই শতাব্দীর শেষে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ২.৩ থেকে ২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।

প্যারিস চুক্তিতে নির্ধারিত ১.৫ ডিগ্রি সীমা আগামী এক দশকের মধ্যেই “অত্যন্ত সম্ভাব্যভাবে” অতিক্রম করবে বিশ্ব, যা মানবজাতি ও পরিবেশের জন্য ভয়াবহ পরিণতি বয়ে আনতে পারে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, দেশগুলো প্যারিস চুক্তির অধীনে তিনবার জলবায়ু লক্ষ্য পূরণের চেষ্টা করলেও প্রতিবারই লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে।

ইউএনইপি নির্বাহী পরিচালক ইংগার অ্যান্ডারসন বলেন, জাতীয় পর্যায়ের পরিকল্পনায় কিছু অগ্রগতি হলেও তা “কখনোই যথেষ্ট নয়”, এবং এখন “অভূতপূর্ব মাত্রায় নির্গমন হ্রাস” অপরিহার্য।

২০২৪ সালে বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণ আগের বছরের তুলনায় ২.৩ শতাংশ বেড়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে ভারত, তারপর চীন, রাশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া। তবে ধনী ও প্রভাবশালী জি২০ দেশগুলো একাই বৈশ্বিক নিঃসরণের প্রায় তিন-চতুর্থাংশের জন্য দায়ী। ছয়টি বৃহৎ দূষণকারী দেশের মধ্যে একমাত্র ইউরোপীয় ইউনিয়ন গত বছর তাদের নিঃসরণ কমাতে সক্ষম হয়েছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সময় দেশটি জলবায়ু প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসে এবং প্যারিস চুক্তি থেকে প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করে।

ইউএনইপি জানায়, এই নীতির ফলে বৈশ্বিক উষ্ণতায় অতিরিক্ত ০.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস যোগ হতে পারে।

বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, প্রাক-শিল্প যুগের তুলনায় ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি উষ্ণতা পৃথিবীর জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। ইতোমধ্যে ১.৪ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছানো বর্তমান উষ্ণতায় বেশিরভাগ উষ্ণমণ্ডলীয় প্রবাল প্রাচীর ধ্বংসের মুখে, হিমবাহ গলছে, এবং অ্যামাজন বনে স্থায়ী পরিবর্তন ঘটছে।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, প্যারিস চুক্তির ৬০টি পক্ষ—যারা বৈশ্বিক নিঃসরণের প্রায় ৬৩ শতাংশের জন্য দায়ী—২০৩৫ সালের জন্য নতুন জলবায়ু লক্ষ্য ঘোষণা করেছে। তবে তা যথেষ্ট নয়।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, আগামী দশকের শুরুতেই ১.৫ ডিগ্রি সীমা অতিক্রম অনিবার্য হবে, কিন্তু এটি হাল ছাড়ার কারণ নয়। বরং এখনই দ্রুত পদক্ষেপ ও উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে পৃথিবীকে বাসযোগ্য রাখার সুযোগ এখনও বিদ্যমান।

তিনি আরও বলেন, “বিজ্ঞান স্পষ্টভাবে বলছে—এই লক্ষ্য এখনও অর্জনযোগ্য, যদি আমরা এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিই। প্রতিটি.ডিগ্রি পৃথিবীর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে।”

Visited 5 times, 1 visit(s) today