উইটনেস বিডি
🔲 ধর্ম অবমাননার অভিযোগ, পুলিশ কার্যালয়ে তরুণকে গণপিটুনি
🔲 অধ্যক্ষকে হাতুড়িপেটা, পদত্যাগে বাধ্য
🔲 পালিয়ে বাঁচলেন তৃতীয় লিঙ্গের লোকজন
🔲 চোর অপবাদে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবককে পিটিয়ে হত্যা
১। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “কটূক্তি” করার অভিযোগে খুলনায় এক কলেজছাত্রকে মারধর করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। বুধবার দিবাগত রাত ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে খুলনা নগরীর সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রাতেই মসজিদের মাইকে ওই কলেজছাত্রের মৃত্যুর খবর প্রচার করা হয়। কিন্তু আজ সকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, গণপিটুনিতে আহত তরুণ বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিরাপত্তার কারণে কর্তৃপক্ষ তার অবস্থান প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, কলেজছাত্র উৎসব মণ্ডল মহানবীকে (সা.) নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে “আপত্তিকর মন্তব্য” পোস্ট করেন। রাত পৌনে ৮টার দিকে কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে আটক করে সোনাডাঙ্গায় ডেপুটি পুলিশ কমিশনারের (দক্ষিণ) কার্যালয়ে নিয়ে যায়।
বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে জনতা গিয়ে ওই কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করে। এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত জনতা কটুক্তিকারীকে তাদের হাতে তুলে দিতে কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করতে শুরু করেন। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে রাত পৌনে ১২টার দিকে উত্তেজিত জনতা অফিসে ঢুকে উৎসব মণ্ডলকে গণপিটুনি দেয়।
উপ-পুলিশ কমিশনার তাজুল গণমাধ্যমকে বলেন, “আটক উৎসব মণ্ডলের বিরুদ্ধে মামলা এবং তাকে আদালতের মাধ্যমে বিচারের আওতায় আনার ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বিক্ষোভকারীদের আশ্বাস দেওয়া হয়। তারপরও তারা উৎসবকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। ওই সময় মসজিদের মাইকে তরুণ নিহত হওয়ার সংবাদ প্রচার করে উত্তেজিত জনতাকে বাড়ি ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।”
২। ফরিদপুরের সালথায় কলেজের অধ্যক্ষকে হাতুড়ি দিয়ে পেটানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে। পরে জোর করে তার কাছ থেকে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেন শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের নবকাম পল্লী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে এ ঘটনা ঘটে। জোর করে পদত্যাগপত্রে অধ্যক্ষ ওবায়দুর রহমানের স্বাক্ষর নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনিছুর রহমান বালী বলেন, অধ্যক্ষ ওবায়দুর রহমানের পদত্যাগ দাবিতে গত ১লা সেপ্টেম্বর শিক্ষার্থীরা একটি মানববন্ধন করে। খবর পেয়ে তিনিসহ সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তখন শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে তেমন সত্যতা পাওয়া যায়নি। পরে ঘটনাটি তারা মীমাংসা করে দেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা আর আন্দোলন করবে না বলে লিখিত দেয়। কিন্তু হঠাৎ করে সন্ত্রাসী কায়দায় অধ্যক্ষকে মারধর ও তাঁর কাছ থেকে জোর করে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেওয়াটা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
এদিকে রাজধানীর কাকলি হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ দীন মোহাম্মদ খানের পদত্যাগ দাবিতে মানববন্ধন করেছেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তারা অধ্যক্ষ দীন মোহাম্মদ খানের বিভিন্ন দুর্নীতিরও তদন্ত দাবি করেন।
৩। তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীর সরকারি আবাসনে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জীবন বাঁচাতে গত বুধবার মধ্যরাত থেকে জেলা প্রশাসক অফিসের বারান্দায় আশ্রয় নিয়েছেন তৃতীয় লিঙ্গের ৪০ জন। জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দিলে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মনিরুল হাসান তাদের থানায় মামলা করার পরামর্শ দেন।
জানা গেছে, শেরপুর সদর উপজেলার রোহা ইউনিয়নের চক-আন্ধারিয়া সুতিরপাড় এলাকায় তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীর আবাসনে বুধবার মধ্যরাতে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। ভাঙচুর ও লুটপাট করে হামলাকারীরা। প্রাণ বাঁচাতে আবাসন থেকে পালিয়ে যায় তৃতীয় লিঙ্গের লোকজন। রাত ২টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন তারা।
পরে জেলা হিজড়া কল্যাণ সংস্থার সভাপতি নিশি সরকার বলেন, তিন বছর ধরে সরকারের দেওয়া আবাসনে বসবাস করে আসছেন তারা। হঠাৎ করে তাদের আবাসনে হামলা করেছে কিছু লোক। আবাসন ভাঙচুর, লুটপাট ও তাদের মারধর করা হয়েছে। প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে গেছেন তারা।
তিনি বলেন, ‘আমরা কী অপরাধ করেছি? আমাদের ওপর কেন হামলা করা হলো? আমরা কি মানুষ না? আমরা থানায় মামলা করেছি এবং ডিসি বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছি। সঠিক বিচার চাই।’
৪। নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার দড়ি সোনাকান্দা এলাকায় চোর আখ্যা দিয়ে রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে পল্টন নামে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবককে হত্যা করা হয়েছে। আজ সকালে বন্দর দড়ি সোনাকান্দা এলাকায় তাকে মারধর করে পুকুরের পানিতে চুবিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, পল্টন মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে টাকা চেয়ে নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে দড়ি সোনাকান্দা বাইতুল সালাত মসজিদের সামনে দিয়ে তিনি বাড়ি যাচ্ছিলেন। পথে এলাকার খোকন মিয়া, নাঈমসহ কয়েকজন পল্টনকে চোর আখ্যা দিয়ে মসজিদের পাশের বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে পিটিয়ে ডান হাত ভেঙে ফেলে।
এক পর্যায়ে অচেতন হয়ে পড়েন ভুক্তভোগী। তখন আরাফাত, লিপি বেগম, ফয়সাল, জয়, শিপলু, আকিল, রিয়ামনি ও আম্বিয়া বেগমসহ ১০-১২ জন মিলে পল্টনকে মসজিদের সামনে থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে একটি পুকুরে নিয়ে পানিতে চুবিয়ে তুলে নিয়ে আসে।
এলাকাবাসীর ধারণা, সে সময়ই মারা যান পল্টন। পল্টনকে ফের মসজিদের সামনের বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রেখে মরিচের গুঁড়া পানিতে গুলে নাকে-মুখে ঢেলে দেওয়া হয়।
সুত্রঃ ঢাকা ট্রিবিউন, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪। সমকাল, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪
