চলছে দুর্নীতির মচ্ছব: এবার উপদেষ্টা আসিফের প্রেস সচিবের অডিও ভাইরাল

চলছে দুর্নীতির মচ্ছব: এবার উপদেষ্টা আসিফের প্রেস সচিবের অডিও ভাইরাল
শেয়ার করুন

ছিলেন একজন ক্রীড়া সাংবাদিক, সেই মাহফুজ আলম এক বছরের ব্যবধানে এখনো গুনছেন কোটি কোটি টাকা। টেন্ডার বাণিজ্যে খাচ্ছেন মোটা অঙ্কের কমিশন। সেই কমিশনের ভাগ যাচ্ছে আবার মন্ত্রণালয়ে। ক্রীড়া ও যুব উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার আরেকটি কেলেঙ্কারি ভাইরাল হয়েছে। তার প্রেস সেক্রেটারি মাহফুজ আলমের একটা ফোনালাপ ভাইরাল হয়ে পড়েছে।

মাহফুজের টেন্ডারের কমিশন নিয়ে দর-কষাকষির একটি অডিও শেয়ার করেছেন প্রবাসী সাংবাদিক জাওয়াদ নির্ঝর। সেই কথোপকথনে একজন ঠিকাদারের সঙ্গে কমিশন নিয়ে দর-কষাকষি করছেন মাহফুজ। তবে ঠিকাদারের পরিচয় ফাঁস হওয়া অডিওতে জানা যায়নি।

ফোনালাপে মাহফুজ আলমকে বলতে শোনা যায়, ‘এগুলো কালকে সাইন করাব, এখন আমাকে বলেন কালকে ওরা কী করবে আর এরপরে কী করবে? তিনি বলেন— না, না, নোয়া (চুক্তিপত্র) পর্যন্ত যাওয়া যাবে না।’ আমি যেটা করছি তা হলো অ্যাডভাইজর মহোদয় সাইন করবেন, ফিফটি পার্সেন্ট দিয়ে দেবে; সিসিজিবি পাস হবে, বাকি ফিফটি পার্সেন্ট দিয়ে দেবে। তাকে আরো বলতে শোনা যায়, আপনি ওদের বলেন এখন সবগুলা হচ্ছে এই ফরমেটে।’

তিনি বলেন, ‘কোনো ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলা, কোনো থার্ড পারসন অথবা কারো সঙ্গে বসা তো দূরের কথা, দেখা করা তো আরো দূরের কথা, ফোনেই কিন্তু আমি কথা বলছি না কারো সঙ্গে। আপনার সঙ্গে বলতেছি, কারণ আপনার সঙ্গে একটা ট্রাস্ট গ্রো (বিশ্বাস তৈরি হয়েছে) করছে, সেই কারণে বলতেছি।
মাহফুজ আলমকে বলতে শোনা যায়, আমি যদি কালকে সাইন করাই, তাহলে পেমেন্ট কি কালকে করতে পারবে?’

মাহফুজ আলম বলেন, ‘কাজ কনফার্ম করে দিলে ৩% এটা হইলো নাকি? শোনেন, আমি আপনাকে একটা কথা বলি- কক্সে (কক্সবাজার) এখন কিছু কাজ চলছে ডিপিডিসির, যেগুলো সিক্স পার্সেন্টে (৬%) আমি করেছি।… ওয়ান (১%) যে মিডলম্যান সে নিচ্ছে, আর ফাইভ (৫%) হচ্ছে মিনিস্ট্রির জন্য। তো এগুলো তো ধরেন অ্যাবাভ (বেশি) ধরা থাকে ভাই, বুঝেন নাই? যখন যে কাজগুলো ডিপিডি (প্রকল্পের বিস্তারিত নথি) হয়, সবগুলোর অ্যাবাভ (বেশি) ধরে ডিপিডি হয়। কোনটাকে সমান সমান ধরে ডিপিডি করা হয় না।

পৃথক আরেকটি ফোনালাপে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘হ্যাঁ, আজকে হচ্ছে, এসব হবে আজকে রাতে হওয়াই দিবো। পরশু দিন তো আমি নোয়া-ই (চুক্তিপত্র) করাব।… না, না, না তাইলে আমি এটা ফেলে রাখি, ঈদের পর করাব। আমি ফাইল আটকে রাখব এখন।… কমিটমেন্ট ঠিক না থাকলে তো এখন দেখছেন।

আপনার জন্য আমি আজকে কী ধরনের অ্যাক্টিভিটিস করছি, আপনার কোনো ধারণা আছে?…এর পরে আপনি আমাকে যদি এগুলা শোনান বা ওরা এগুলা শোনায় এটা হইলো কিছু?’

তিনি বলতে থাকেন, ‘আপনি আপনার কথা ঠিক রাখতে হবে। দ্বিতীয়ত, আপনি যেটা বলেন সেটা আমি কনভে করি। কথা দুই রকম হইলে কিন্তু সমস্যা হয় বুঝছেন?…আমি আজকে ইজিপি করাব, করায়ে কিন্তু আমি নোয়া ঝুলিয়ে রাখব। আপনি কনফার্মেশন দেবেন, এরপরে নোয়া। আর দুইটা ১.৫, দুইটা ১ পার্সেন্ট এগুলো কিন্তু হবে না ভাই; ১.৫ মানে ১.৫, দ্যাটস ইট।’

আলাপে পরিস্কার বোঝা যায় কোন একটা কাজ পাইয়ে দেয়ার বিনিময়ে একটি টয়েটো কোম্পানির নোয়া গাড়ি পাচ্ছেন মাহফুজ। এছাড়া প্রতিটি কাজে তিনি কমিশন পাচ্ছেন, ভাগ দিচ্ছেন মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন ধাপে।

এই ব্যাপারে মাহফুজের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অডিও ফাঁসের উপর ক্রীড়া অঙ্গনে তোলপাড় চলছে। মাহফুজের সাবেক এক সহকর্মী বলেছেন, ‘যে ছেলে ৬০ হাজার টাকা বেতনের চাকরি করত এখন তার মাসিক আয় ৬০ লাখ টাকার বেশি। এই হলো পরিবর্তন। এমন প্রকাশ্যে দুর্নীতির উপরও এদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেই।’

Visited 24 times, 1 visit(s) today