নোয়াখালী প্রতিনিধি
নোয়াখালীর সবর্ণচর উপজেলার চরবাটা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক মিজান মাঝিকে (৪৫) বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছে যৌথ বাহিনী।
আজ ৮ই আগস্ট, শুক্রবার আবু বক্কর সিদ্দিক মিজান মাঝিকে তার নিজ বসতঘর থেকে কোস্টগার্ডের সদস্যরা গ্রেপ্তার করেন।
চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া বলেন, মিজান মাঝিকে আটকের অভিযান পরিচালনা করে কোস্টগার্ড। রাতে মিজান মাঝির পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি আমাদের জানালে পুলিশ ওখানে গিয়ে কোস্টগার্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হয়।
কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকতা লে. ক. (বিএন) মো. সিয়াম-উল-হক এক জানান, নোয়াখালীর হাতিয়ার বাংলাবাজার মাছ ঘাটে আবু বক্কর সিদ্দিক ওরফে মিজান ডাকাতের মাছের আড়তে বিপুল সংখ্যক আগ্নেয়াস্ত্র এবং দেশীয় অস্ত্র মজুদ রয়েছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার ভোর থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত অভিযান চালায় কোস্টগার্ড।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো জানানো হয়, আবু বক্কর সিদ্দিক ওরফে মিজানের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তাকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাবাজারে বিসমিল্লাহ মৎস্য আড়ত তল্লাশি করে ৯টি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, ২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ১ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ ও ৩টি দেশীয় অস্ত্র এবং ২৯টি হাত বোমা জব্দ করা হয়।
আটক বিএনপি নেতা মিজান ডাকাত ও জব্দকৃত সকল আলামতসহ তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে বলে জানানো হয় প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে।
তবে পরিবারের দাবি, মিজান মাঝিকে হাত-পা ও চোখ বেঁধে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর ঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে এবং পরে অস্ত্র মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
পরিবার জানায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার পর ৩০–৩৫ জন লোক কোস্টগার্ড পরিচয়ে ঘরে ঢুকে মিজান মাঝিকে ধরে নিয়ে যায়। এরপর তাকে অস্ত্র ও বোমা রাখার অভিযোগে মামলায় জড়ানোর চেষ্টা চলছে।
এ ঘটনায় শুক্রবার দুপুরে ভূঁইয়ার হাট বাজারে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী তার মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন। বক্তারা মিজান মাঝিকে সৎ ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক দাবি করে তাকে ‘নিরপরাধ’ আখ্যা দেন।
