আমাদের সৌরজগতে প্রবেশ করা তৃতীয় আন্তঃনাক্ষত্রিক ধূমকেতু 3I/ATLAS

আমাদের সৌরজগতে প্রবেশ করা তৃতীয় আন্তঃনাক্ষত্রিক ধূমকেতু 3I/ATLAS
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা, ৫ জুলাই ২০২৫: নাসার অর্থায়নে পরিচালিত ATLAS (Asteroid Terrestrial-impact Last Alert System) টেলিস্কোপ চিলির রিও হুর্তাডোতে ১ জুলাই ২০২৫-এ একটি রহস্যময় আন্তঃনাক্ষত্রিক বস্তু আবিষ্কার করেছে, যার নামকরণ করা হয়েছে 3I/ATLAS। এটি আমাদের সৌরজগতের বাইরে থেকে আগত তৃতীয় ধমকেতু, যা পূর্বে আবিষ্কৃত 1I/ʻOumuamua (২০১৭) এবং 2I/Borisov (২০১৯)-এর পর তৃতীয়। এই ধূমকেতুটি বর্তমানে সূর্য থেকে প্রায় ৬৭০ মিলিয়ন কিলোমিটার (৪২০ মিলিয়ন মাইল) দূরে অবস্থান করছে এবং প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১৫০,০০০ মাইল (৬৮ কিমি/সেকেন্ড) গতিতে ছুটে চলেছে, যা মানুষের তৈরি সবচেয়ে দূরবর্তী বস্তু ভয়েজার ১-এর গতির চেয়ে চার গুণ বেশি।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, 3I/ATLAS-এর ব্যাস প্রায় ১০ থেকে ২০ কিলোমিটার (৬-১২ মাইল) হতে পারে। এটি একটি ধূমকেতু হিসেবে শনাক্ত হয়েছে, কারণ এর চারপাশে একটি ক্ষীণ কোমা (গ্যাস ও ধূলিকণার মেঘ) এবং প্রায় ২৫,০০০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের একটি ছোট লেজ পরিলক্ষিত হয়েছে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে এটি বরফ ও ধূলিকণার সমন্বয়ে গঠিত, যা সূর্যের কাছাকাছি আসার সঙ্গে সঙ্গে উত্তপ্ত হয়ে গ্যাস ও ধূলিকণা নির্গত করছে।

ধূমকেতুটির গতিপথ অত্যন্ত হাইপারবোলিক (অর্বিটাল একসেন্ট্রিসিটি ৬.৩০±০.১৫), যা নিশ্চিত করে যে এটি আমাদের সৌরজগতের বাইরে থেকে এসেছে। এটি ২৯ অক্টোবর ২০২৫-এ সূর্যের সবচেয়ে কাছাকাছি বিন্দুতে (পেরিহেলিয়ন) পৌছাবে, যখন এটি সূর্য থেকে ১.৩৮ অ্যাস্ট্রোনমিকাল ইউনিট (২১০ মিলিয়ন কিলোমিটার) দূরে থাকবে, মঙ্গল গ্রহের কক্ষপথের ভিতরে। পৃথিবীর সঙ্গে এর নিকটতম দূরত্ব হবে ১৯ ডিসেম্বর, প্রায় ২৭০ মিলিয়ন কিলোমিটার, তাই এটি পৃথিবীর জন্য কোনো হুমকি নয়।

বিজ্ঞানীদের মতে, 3I/ATLAS ধূমকেতুটির পৃথিবীর সাথে সংঘর্ষের কোনো সম্ভাবনা নেই। এটি ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫-এ পৃথিবীর সবচেয়ে কাছাকাছি আসবে, তবে তখনও এর দূরত্ব থাকবে প্রায় ২৭০ মিলিয়ন কিলোমিটার (১৬৮ মিলিয়ন মাইল), যা পৃথিবী ও মঙ্গল গ্রহের মধ্যবর্তী গড় দূরত্বের চেয়েও অনেক বেশি। এর হাইপারবোলিক গতিপথ নিশ্চিত করে যে এটি সৌরজগতের মধ্য দিয়ে দ্রুত অতিক্রম করবে এবং পুনরায় ফিরে আসবে না। নাসা এবং ইএসএ-এর পর্যবেক্ষণে এটি পৃথিবীর জন্য কোনো হুমকি সৃষ্টি করবে না বলে নিশ্চিত করা হয়েছে, তাই জনমনে এ নিয়ে কোনো আতঙ্কের কারণ নেই।

নাসার জেট প্রোপালশন ল্যাবরেটরির পরিচালক পল চোডাস বলেন, “এই ধূমকেতু লক্ষ লক্ষ বা কোটি ক,োটি বছর ধরে মহাকাশে ভ্রমণ করছে। এটি আমাদের সৌরজগতের বাইরের অন্য নক্ষত্র ব্যবস্থার একটি নমুনা, যা আমাদের গ্যালাক্সির গঠন ও ইতিহাস সম্পর্কে নতুন তথ্য দিতে পারে।”

এই আবিষ্কার জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি করেছে। আগামী মাসগুলোতে আরও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এই আন্তঃনাক্ষত্রিক দর্শনার্থীর রহস্য উন্মোচনের প্রত্যাশা করছেন বিজ্ঞানীরা।

 

Visited 6 times, 1 visit(s) today