প্রথম ওয়ানডেতে ব্যাটিং ধসে বড় হারের শিকার হওয়া বাংলাদেশ দ্বিতীয় ম্যাচে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ালো। টানটান উত্তেজনায় ভরা দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ১৬ রানে হারিয়েছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল। এই জয়ের ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-১ সমতা ফিরেছে।
টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা খুব একটা ভালো না হলেও, নির্ধারিত ৫০ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ২৪৮ রান তোলে বাংলাদেশ। অভিষিক্ত পারভেজ হোসেন ইমন ১৩ রান করে ফিরলেও, তানজিদ হাসান তামিম এবং তাওহীদ হৃদয় দলের রান বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। শেষের দিকে তানজিম হাসান সাকিবের ঝড়ো ক্যামিও ইনিংস দলকে একটি লড়াকু স্কোর এনে দেয়। শ্রীলঙ্কার পেসার আসিথা ফার্নান্দো ৩৫ রানে ৪টি এবং স্পিনার ভানিন্দু হাসারাঙ্গা ৬০ রানে ৩টি উইকেট লাভ করেন।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শ্রীলঙ্কা শুরুটা বেশ আক্রমণাত্মক করে। ওপেনার পাথুম নিশাঙ্কাকে দ্রুত হারালেও, কুসল মেন্ডিস এবং নিশান মাদুশকা দ্রুত রান তুলতে থাকেন। কুসল মেন্ডিস মাত্র ২০ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন এবং ৩১ বলে ৫৬ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন। এক পর্যায়ে শ্রীলঙ্কার স্কোর ছিল ১ উইকেটে ৭৫। তবে, অষ্টম ওভারে আক্রমণে এসে বাঁহাতি স্পিনার তানভীর ইসলাম ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। তিনি প্রথমে মাদুশকাকে (১৭) ফেরান এবং এরপর বিপজ্জনক কুসল মেন্ডিসকে এলবিডব্লিউ করে সাজঘরে পাঠান।
এই ম্যাচে সুযোগ পাওয়া শামীম হোসেনও পার্ট-টাইম স্পিনে চমক দেখান এবং শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক চারিথ আসালাঙ্কাকে আউট করেন। এরপর তানভীর ইসলাম আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান। তিনি কামিন্দু মেন্ডিস (৩৩) এবং দুনিথ ভেলালাগেকে আউট করেন।
একদিকে যখন উইকেট পড়তে থাকে, তখন জানিথ লিয়ানাগে একাই লড়াই চালিয়ে যান এবং একটি অসাধারণ অর্ধশতক করেন। ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার সাথে তার ২৪ রানের জুটি কিছুটা আশা জাগিয়েছিল, কিন্তু মেহেদি হাসান মিরাজ হাসারাঙ্গাকে ফিরিয়ে সেই জুটিতে ভাঙন ধরান। শেষ পর্যন্ত, শ্রীলঙ্কার ইনিংস ৪৮.৫ ওভারে ২৩২ রানে থেমে যায়। তানভীর ইসলাম ১০ ওভারে ৩৩ রান দিয়ে ৫টি উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সেরা বোলার ছিলেন।
সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে আগামী ৮ জুলাই পাল্লেকেলেতে অনুষ্ঠিত হবে।
