নিজস্ব প্রতিবেদক
সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশের নামে জমা থাকা অর্থের পরিমাণ এক বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ৩৩ গুণের বেশি। ২০২৪ সালের শেষে সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশের নামে জমা ছিল ৫৯ কোটি ৮২ লাখ সুইস ফ্রাঁ, যা বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী (প্রতি ফ্রাঁ ১৫০ টাকা ধরে) প্রায় ৮ হাজার ৯৭২ কোটি টাকা।
গতকাল এই তথ্য প্রকাশ করেছে সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক (এসএনবি)। এর আগে, ২০২৩ সালের শেষে এই পরিমাণ ছিল মাত্র ২ কোটি ৬৪ লাখ ফ্রাঁ, অর্থাৎ প্রায় ৩৯৬ কোটি টাকা। ২০২২ সালের শেষে জমা ছিল ৫ কোটি ৮৪ লাখ ফ্রাঁ বা আনুমানিক ৮৭৬ কোটি টাকা।
এসএনবির তথ্য অনুযায়ী, সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে বাংলাদেশের নামে থাকা অর্থের মধ্যে রয়েছে ব্যাংকগুলোর পাওনা, আমানতকারীদের জমা অর্থ এবং পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ। বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই অর্থের ৯৫ শতাংশেরও বেশি হচ্ছে বাণিজ্য সংক্রান্ত লেনদেনে বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর পাওনা অর্থ।
তবে অর্থ পাচার নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে বিভিন্ন মহলে। সুইস ব্যাংকে রাখা অর্থের একটি অংশ পাচার হওয়া সম্পদ হতে পারে বলে ধারণা করা হলেও, এখনো নিশ্চিত কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশের ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) সুইস এফআইইউ’র সঙ্গে কয়েকবার যোগাযোগ করলেও ব্যক্তিভিত্তিক তথ্য কিংবা কোনো নামের তালিকা এখনো দেয়নি সুইস কর্তৃপক্ষ।
সুইজারল্যান্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যদি কেউ অবৈধ অর্থ পাচারের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দিতে পারে, তাহলে তারা তথ্য দিতে প্রস্তুত।
এদিকে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস গত ১৫ই মে কুমিল্লার এক জনসভায় বলেন, আওয়ামী লীগ দেশ থেকে টাকা পাচার করেছে সত্য, তবে অন্তর্বর্তী সরকারের ৮ মাসে ৯০ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে। সরকারের লোকজনই এই চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত।
তার এমন বক্তব্য ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে— সুইস ব্যাংকে হঠাৎ করে বাংলাদেশিদের নামে অর্থের এই বিপুল পরিমাণ বৃদ্ধি কি সেই পাচার হওয়া অর্থেরই প্রতিফলন?
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। কারণ, কেউ যদি নিজের নামের পরিবর্তে অন্য দেশের ঠিকানা ব্যবহার করে অর্থ গচ্ছিত রাখে, তাহলে তা এই পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত হয় না। একইভাবে, সুইস ব্যাংকের নিরাপদ ভল্টে রাখা সোনা, শিল্পকর্ম বা অন্যান্য মূল্যবান দ্রব্যের মূল্য এই হিসাবের বাইরে থাকে।
তথ্য গোপন এবং অর্থ পাচারের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সুইস ব্যাংকের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদান এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
