ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার জন এফ কেনেডি হত্যার সমস্ত গোপন নথি প্রকাশ করবেন

ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার জন এফ কেনেডি হত্যার সমস্ত গোপন নথি প্রকাশ করবেন
শেয়ার করুন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ওয়াশিংটন, ১৮ মার্চ ২০২৫: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী মঙ্গলবার, ২৫ মার্চ ২০২৫, জন এফ কেনেডির হত্যার সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্ত গোপন নথি প্রকাশ করতে চলেছেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এই ঘোষণায় তিনি জানিয়েছেন যে, ৮০,০০০ পৃষ্ঠারও বেশি নথি কোনো সম্পাদনা বা কাটছাঁট ছাড়াই জনসমক্ষে উন্মুক্ত করা হবে। এর আগে ২০১৭ সালে ট্রাম্প এই নথি প্রকাশের অনুমতি দিয়েছিলেন, এবং এখন পর্যন্ত এই নথির প্রায় ৯৯ শতাংশ জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। তবে, বাকি অংশটি এখনও গোপন রয়ে গেছে, যা এবার প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে অনেকে ঐতিহাসিক হিসেবে দেখছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, এই নথি প্রকাশের মাধ্যমে জনগণ সত্য জানতে পারবে এবং দীর্ঘদিনের গোপনীয়তার অবসান ঘটবে। তবে, বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এই নথিতে এমন কোনো চাঞ্চল্যকর তথ্য থাকতে পারে যা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। ইতোমধ্যে প্রকাশিত নথি থেকে জানা গেছে যে, সিআইএ এবং এফবিআইয়ের মতো গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এই ঘটনার সঙ্গে কিছুটা হলেও জড়িত থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হয়েছিল। তবে, সম্পূর্ণ সত্য এখনও অজানা।
ট্রাম্প এর আগেও কেনেডি হত্যার নথি প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ২০১৭ সালে তিনি প্রায় ২৯,০০০ নথি প্রকাশ করেছিলেন, কিন্তু জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে কিছু নথি তখন গোপন রাখা হয়েছিল। এবার তিনি জানিয়েছেন, কোনো নথিই আর গোপন থাকবে না। এই ঘোষণা রাজনৈতিক মহলেও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ট্রাম্পের সমর্থকরা এটিকে তার স্বচ্ছতার প্রতিশ্রুতির প্রমাণ হিসেবে দেখছেন, অন্যদিকে সমালোচকরা বলছেন, এটি হয়তো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ।
ইতিহাসবিদ এবং গবেষকরা এই নথি প্রকাশের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। তাদের মতে, এতে কেনেডি হত্যার পেছনের পূর্ণাঙ্গ চিত্র উঠে আসতে পারে, যা দীর্ঘদিনের প্রশ্নের উত্তর দিতে সক্ষম হবে। তবে, এই নথিতে কী ধরনের তথ্য থাকবে এবং তা কীভাবে জনমনে প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে এখনও কেবল অনুমানই করা যাচ্ছে।
২২ নভেম্বর, ১৯৬৩
জন এফ কেনেডি এবং ফার্স্ট লেডি জ্যাকলিন কেনেডিকে বহনকারী এয়ার ফোর্স ওয়ান যখন ডালাসে অবতরণ করে, তখন পরিষ্কার আকাশ এবং উৎসাহী জনতা তাদের স্বাগত জানায়। পরের বছর নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে তারা টেক্সাসে রাজনৈতিক সমঝোতার জন্য সফরে যান। কিন্তু মোটরকেডটি শহরের কেন্দ্রস্থলে প্যারেড রুট শেষ করার সময় টেক্সাস স্কুল বুক ডিপোজিটরি ভবন থেকে গুলি ছোড়া হয়। পুলিশ ২৪ বছর বয়সী লি হার্ভে অসওয়াল্ডকে গ্রেপ্তার করে, যিনি ষষ্ঠ তলায় স্নাইপারের অবস্থান থেকে গুলি চালিয়েছিলেন। দুদিন পর নাইটক্লাবের মালিক জ্যাক রুবি জেলে স্থানান্তরের সময় অসওয়াল্ডকে গুলি করে হত্যা করেন।
এক বছর পর, প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি জনসন গঠিত ওয়ারেন কমিশন তদন্ত করে জানায়, অসওয়াল্ড একাই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন এবং কোনো ষড়যন্ত্রের প্রমাণ নেই। কিন্তু এটি দশকের পর দশক ধরে বিভিন্ন বিকল্প তত্ত্বের জন্ম দিতে বাধা দেয়নি।
জেএফকে নথি
১৯৯০-এর দশকের শুরুতে ফেডারেল সরকার নির্দেশ দেয় যে, হত্যার সঙ্গে সম্পর্কিত সব নথি ন্যাশনাল আর্কাইভস অ্যান্ড রেকর্ডস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে একক সংগ্রহে রাখা হবে। ৫০ লাখেরও বেশি পৃষ্ঠার এই সংগ্রহ ২০১৭ সালের মধ্যে প্রকাশের কথা ছিল, যদি না প্রেসিডেন্ট কোনো ছাড় দেন। ট্রাম্প প্রথম মেয়াদে দায়িত্ব নিয়ে বলেছিলেন, তিনি সব নথি প্রকাশ করবেন, কিন্তু জাতীয় নিরাপত্তার কারণে কিছু নথি গোপন রাখেন। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময়ও নথি প্রকাশ অব্যাহত থাকলেও কিছু এখনও অপ্রকাশিত। গবেষকরা অনুমান করেন, প্রায় ৩,০০০ নথি পুরোপুরি বা আংশিকভাবে প্রকাশিত হয়নি।
গত মাসে এফবিআই জানায়, তারা হত্যার সঙ্গে সম্পর্কিত প্রায় ২,৪০০ নতুন নথি আবিষ্কার করেছে এবং সেগুলো ন্যাশনাল আর্কাইভে স্থানান্তরের জন্য কাজ করছে। তবে, প্রায় ৫০০ নথি, যার মধ্যে ট্যাক্স রিটার্ন রয়েছে, ২০১৭ সালের প্রকাশের আওতায় পড়ে না বলে গবেষকরা মনে করেন।
যা জানা গেছে
ইতোমধ্যে প্রকাশিত নথি থেকে গোয়েন্দা সংস্থার কার্যপ্রণালী সম্পর্কে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সিআইএর তারবার্তা ও মেমো রয়েছে, যেখানে হত্যার কয়েক সপ্তাহ আগে মেক্সিকো সিটিতে অসওয়াল্ডের সোভিয়েত ও কিউবান দূতাবাস পরিদর্শনের বিষয় উল্লেখ আছে। প্রাক্তন মেরিন অসওয়াল্ড এর আগে সোভিয়েত ইউনিয়নে পালিয়ে গিয়েছিলেন এবং পরে টেক্সাসে ফিরে আসেন।
একটি সিআইএ মেমোতে বলা হয়েছে, মেক্সিকো সিটিতে অসওয়াল্ড সোভিয়েত দূতাবাসে ফোন করে ভিসার জন্য আবেদন করেছিলেন। তিনি কিউবান দূতাবাসেও গিয়েছিলেন, সম্ভবত কিউবা হয়ে সোভিয়েত ইউনিয়নে যাওয়ার ভিসার জন্য। হত্যার এক মাসেরও বেশি আগে তিনি টেক্সাস সীমান্ত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসেন। আরেকটি মেমোতে বলা হয়েছে, হত্যার পরদিন মেক্সিকো সিটিতে শোনা একটি ফোন কলে জানা যায়, অসওয়াল্ড সেপ্টেম্বরে সোভিয়েত দূতাবাসে একজন কেজিবি কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন।
গবেষকরা বলছে
মঙ্গলবার এই নথি প্রকাশের পর বিশ্বজুড়ে এর প্রতিক্রিয়া কী হবে, সেদিকে তাকিয়ে রয়েছে গোটা বিশ্ব।
Visited 73 times, 1 visit(s) today