গত বছরের ৫ অগাস্ট আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর অন্য অনেক কিছুর মতন বিশাল ধাক্কা খায় আবাহনী লিমিটেডও। দেশের ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটিতেও চালানো হয় হামলা, দেওয়া হয় আগুন, করা হয় লুটপাট। ক্লাবের পৃষ্ঠপোষকদের উপর নেমে আসে খড়্গ। ধারণা করা হচ্ছিলো এবার ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ ক্রিকেটে হয়ত দল বানাতেই ভুগবে তারা। সবাইকে অবাক করে বেশ শক্তিশালী দল নিয়ে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও লিগের পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে উঠেছে আকাশী-নীল শিবির।
মঙ্গলবার বিকেএসপিতে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জকে ৪ উইকেটে অনায়াসে হারিয়েছে আবাহনী। আগে ব্যাট করে ২৯২ রান করেছিলো রূপগঞ্জ। জবাবে নাজমুল হোসেন শান্তর সেঞ্চুরিতে ওই রান ৮ বল আগেই টপকে যায় আবাহনী। এই জয়ে ৬ ম্যাচ শেষে ৫ জয়ে আবাহনীর পয়েন্ট ১০। ৬ ম্যাচে পাঁচ জয়ে সমান ১০ পয়েন্ট গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সেরও। তবে রানরেটে এগিয়ে আবাহনী থাকছে এক নম্বরে।
মজার কথা হলো আওয়ামী লীগ সরকার পতনের ঝাপটা লেগেছে গাজী গ্রুপেও। আওয়ামী লীগ নেতার মালিকানাধীন গাজী গ্রুপের উপরও নেমেছে খড়গ। কোনভাবে দল করে তারাও মাঠের লড়াইয়ে আছে উপরের দিকে।
এবার লিগের আগে সবচেয়ে ফুরফুরে অবস্থায় ছিলো মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ও লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। দুটি ক্লাবেরই মালিকানায় আছেন বিএনপির রাজনীতিতে সংশ্লিষ্টরা। মঙ্গলবার মোহামেডান ৬৫ রানের বড় ব্যবধানে হারে গাজী গ্রুপের কাছে। আর রূপগঞ্জের পরাজয় আবাহনীর কাছে।
রূপগঞ্জের মালিকানায় আছেন লুৎফুর রহমান বাদল। তিনি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বন্ধু বলে পরিচিত। ক্ষমতার দাপটে এবার মোহামেডান ও রূপগঞ্জ বিসিবির একাডেমির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে, সেখানে অন্য কোন ক্লাবকে জায়গা না দিয়ে তাদের ক্রিকেটারদের রাখছে।
এদিক থেকে ব্যাকফুটে থাকা আবাহনী মাঠের লড়াইয়ে এখনো পর্যন্ত সবার সেরা। বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা নিজেদের এই অবস্থান ধরে রাখতে পারবে কিনা দেখার বিষয়। তবে লিগ শুরুর আগে যেমন ধারণা করা হয়েছিলো আবাহনী হয়ত জোড়াতালি দিয়ে চলবে, তা হয়নি। বরং দাপটের সঙ্গেই অবস্থান করছে ঘরোয়া ক্রিকেটে।
জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় ছেলে শেখ কামাল আবাহনী ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা। এই কারণেই ক্লাবটির উপর নেমে আসে চরম প্রতিকূল অবস্থা। হামলা, লুটপাট চালানো হয়। পৃষ্ঠপোষকদের অবস্থাও ছিলো বেহাল। বেক্সিমকো গ্রুপের অর্থায়ন ছিলো ক্লাবটিতে, স্বাভাবিকভাবেই তারা সরে গেছেন দৃশ্যপট থেকে। নতুন অবস্থায় শেখ কামালের বন্ধু তানভির মাজহার তান্না নেন দায়িত্ব। আবাহনীর পুরনো সৈনিকরা ফের ঐক্যবদ্ধ হয়ে চালাচ্ছেন ক্লাবটি।
