বিশ্বজুড়ে বড়দেশ ও পার্শ্ববর্তী ছোট দেশের সম্পর্কের বাস্তবতা

বিশ্বজুড়ে বড়দেশ ও পার্শ্ববর্তী ছোট দেশের সম্পর্কের বাস্তবতা
শেয়ার করুন
-আযম খান
দুনিয়াতে বড় দেশ প্রতিবেশি হলে অপেক্ষাকৃত ছোট প্রতিবেশিকে দুনিয়ার প্যারা নিতে হয়। ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডার গতকাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর মুখের উপরে কানাডাকে আমেরিকার ৫১তম রাজ্য হয়ে যাইতে বলছেন। ট্রুডো একটা কাষ্ঠ হাসি দেয়া ছাড়া কিছু বলতে পারে নাই। গতকালকেও ট্রাম্প একই কাজ করেছে। কানাডা সহ্য করা ছাড়া উপায় নাই দেখে একটা আওয়াজও করে নাই।
রাশিয়া চায় না তার প্রতিবেশি দেশগুলো তার প্রভাব বলয়ের বাইরে চলে যাক। তারজন্য তারা ইউক্রেনে আক্রমন করেছে, জর্জিয়া আক্রমন করেছে।
চীনের সাথে সাউথ চায়না সি নিয়ে তার প্রতিবেশী দেশগুলো আন্তর্জাতিক আদালতে গিয়েছিল। চীন মামলায় হেরে গিয়েছিল। ফলাফল মানতে অস্বীকার করে এক মিটার জায়গাও একটা প্রতিবেশী কাউকে দেয় নাই। উল্টা নৌবাহিনী দিয়ে প্রতিবেশি দেশগুলোর বেসামরিক, সামরিক জাহাজগুলোতে হয়রানি করে নিয়মিত। এটা হচ্ছে দুনিয়ার বাস্তবতা।
বাংলাদেশ ভারতের বাস্তবতাও একই। তবে ভারতের সাথে শেখ হাসিনার আমলে সমুদ্রসীমার বিতর্ক আদালতে ফয়সালা হইছে। ভারত রায় মেনে নিয়ে বাংলাদেশকে জায়গা ছেড়ে দিয়েছে। ছিটমহল চুক্তিতেও তাই। আমরা যা দিয়েছি তার চাইতে বেশি জায়গা ভারত থেকে বুঝে পেয়েছি।
ভারতের সাথে ফেনী নদীর পানি নিয়ে চুক্তি হয়েছিল। ঐ চুক্তিকে কেন্দ্র করে ফেসবুক পোষ্টের কারনেই আবরার মারা গেলো। ঐ সময়ে আবরারদের ঘরানারা দাবী ছিল ফেনী নদী এই চুক্তির কারনে শুকিয়ে যাবে। ফেনী নদীর পানি যা ছিল এখনো তাই আছে। এখন যেহেতু তারা ক্ষমতায় তাই ফেনী নদীর শুকিয়ে যাবার কথা শুনা যায় না।
তিস্তা নিয়ে চুক্তি এখনো বাকি আছে। তবে এর দায় যতটা না ভারতের ফেডারেল সরকারের তার চাইতে বেশি মমতা ম্যাডামের। ট্রানজিট নিয়েও অনেক কথা শুনা গেছে। এখন আর আসিফ নজরুল, রিজভী, জামাতের আমীরেরা এসব নিয়ে কথা বলেন না।
সীমান্ত হত্যাকান্ড আরেকটা ইস্যু। সীমান্তে হত্যা শুরু হয় মূলত জিয়াউর রহমানের আমলে। যখন বাংলাদেশ সেভিয়েত এবং ভারত থেকে মুখ ঘুরিয়ে পাকিস্তান-আমেরিকামুখী হয়। শুধু তাই না পার্বত্য চট্টগ্রামের অশান্তিতেও ভারতের জড়িত থাকার অভিযোগ আছে। খেয়াল করেন, দুটো সমস্যাই জোরালোভাবে শুরু হয় একই সময়ে। ইট মেরেছে ভারতও পাটকেল মেরেছে। এই কাজ সব দেশ করে। কোথাও তার স্বার্থহানি হলে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে রিটালিয়েট করে। কারন এটা অপেক্ষাকৃত সুবিধাজনক। সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর চাইতে খরচ কম এবং মন চাইলে হাত ধুয়ে ফেলা যায়।
আপনি ছোট দেশ হয়ে বড় দেশের সাথে ন্যায্যতার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়তে পারবেন না। এটা প্রায় অসম্ভব। আপনাকে যা করতে হবে তা হচ্ছে যতটা সম্ভব সুসম্পর্ক বজায় রেখে যতটা সম্ভব সুবিধা আদায় করে নেয়া যায়। এই জায়গায় আওয়ামি লীগের পররাষ্ট্রনীতি ১০০তে ৯০ খুব সহজে পাবে। বাংলাদেশে ভারত বিরোধীতা, ভারত কতটা খারাপ বা ভালো তা বুঝতে আমেরিকা, চীন, রাশিয়ার মত বড়দেশগুলো তার প্রতিবেশি দেশগুলোর সাথে কি আচরন করে সেদিকে দেখেন। বরং নিজেকে শুভেচ্ছা জানান এরা আপনার প্রতিবেশি দেশ না।

Visited 43 times, 1 visit(s) today