এমএলএস নিয়মিত মৌসুমে পঞ্চম হলুদ কার্ড দেখার পরও ইন্টার মায়ামির হয়ে নিউ ইংল্যান্ড রেভোলিউশনের বিপক্ষে পরবর্তী ম্যাচে মাঠে নামতে বাধা নেই লিওনেল মেসির। মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) একটি ব্যতিক্রমী নিয়মের সুবিধার কারণে বড় বাঁচা বেঁচে গেছেন এই আর্জেন্টাইন সুপারস্টার।
গত বুধবার এফসি সিনসিনাটির সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করা ম্যাচে হলুদ কার্ড দেখেন ইন্টার মায়ামি অধিনায়ক। এতে শঙ্কা জাগে, হয়তো এক ম্যাচের জন্য স্বয়ংক্রিয় নিষেধাজ্ঞায় পড়তে যাচ্ছেন তিনি। তবে এমএলএসের ‘গুড বিহেভিয়ার রুল’ বা ভালো আচরণের নিয়মের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বাইরে থাকতে হচ্ছে না ২০২২ বিশ্বকাপজয়ীকে।
ম্যাচের ৪৪তম মিনিটে স্যামুয়েল গুইদিকে ফাউল করে বসেন মেসি। রেফারি আরমান্দো ভিয়ারিয়াল সঙ্গে সঙ্গে হলুদ কার্ড দেখান তাকে, যা নিয়ে ইন্টার মায়ামি তারকাকে বেশ ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়।
সিনসিনাটির মুখোমুখি হওয়ার আগে কলরাডো র্যা পিডস, অরল্যান্ডো সিটি, ন্যাশভিল এসসি ও আটলান্টা ইউনাইটেডের বিপক্ষে ম্যাচে কার্ড পেয়েছিলেন মেসি। বুধবারের কার্ডটি ছিল চলতি মৌসুমে তার পঞ্চম হলুদ কার্ড। তবে এমএলএসের বিধিতে একটি বিশেষ ধারা রয়েছে, যার মাধ্যমে ধারাবাহিক ভালো আচরণ দিয়ে খেলোয়াড়রা তাদের কার্ডের সংখ্যা কমাতে পারেন।
টুর্নামেন্টের ‘গুড বিহেভিয়ার রুল’ অনুযায়ী, কোনো খেলোয়াড় টানা ৫টি ম্যাচে কোনো হলুদ বা লাল কার্ড কিংবা শৃঙ্খলাভঙ্গের বাড়তি শাস্তি না পেলে তার জমা হওয়া হলুদ কার্ডের সংখ্যা থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ১টি কার্ড বাদ পড়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে যারা মাঠে শৃঙ্খলা বজায় রাখেন, তাদের পুরস্কৃত করতে এই নিয়মটি চালু রাখা হয়েছে।
তবে নিয়মিত মৌসুমে একজন খেলোয়াড় সর্বোচ্চ তিনবার এই নিয়মটির সুবিধা পেতে পারেন। ওই সীমানায় পৌঁছে গেলে পর পর ম্যাচ কার্ড ছাড়া খেললেও আর কোনো ছাড় পাওয়া যায় না।
চলতি মৌসুমে মেসি ইতিমধ্যেই দুইবার এই নিয়মের সুফল পেয়েছেন। অরল্যান্ডো সিটি ও ন্যাশভিল এসসির বিপক্ষে পাওয়া কার্ড দুটির মাঝে তিনি ৫টি ম্যাচ কার্ড ছাড়া শেষ করেন। ফলে তার জমা হওয়া শাস্তি থেকে ১টি কার্ড কমে যায়। এরপর ন্যাশভিল ও আটলান্টা ইউনাইটেডের ম্যাচের মাঝামাঝি সময়ে তিনি টানা ১০টি ম্যাচ কোনো কার্ড না পেয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ছাড় পান।
যার ফলে আগের দুটি কার্ড নিষেধাজ্ঞার গণনার বাইরে চলে গেছে। যদিও প্রাতিষ্ঠানিক রেকর্ডে সেই কার্ডগুলোর তথ্য থেকে যাবে, তবে সিনসিনাটির বিপক্ষে কার্ড পাওয়ার পর নিষেধাজ্ঞার তালিকায় তার কার্যকর কার্ড সংখ্যা দাঁড়ায় ৩টি। যে কারণে নিউ ইংল্যান্ড রেভোলিউশনের বিপক্ষে রোববারের ম্যাচে খেলতে কোনো বাধা নেই তার।
নিয়মিত মৌসুমের শেষভাগে এসে পয়েন্ট হারানোর বিলাসিতা যখন একদমই সাজে না, তখন মেসির মাঠে উপস্থিতি ইন্টার মায়ামির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইস্টার্ন কনফারেন্সে মায়ামি এখন তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছে, দ্বিতীয় স্থানে থাকা নিউ ইংল্যান্ডের চেয়ে তারা মাত্র ২ পয়েন্টে পিছিয়ে।
সিনসিনাটির সঙ্গে হতাশাজনক ড্রয়ের পর দলের খেলার মান বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন মায়ামি কোচ ক্রিস্টিয়ান গঞ্জালেস। পয়েন্ট হারানোর ক্ষোভকে পুঁজি করে দলকে আরও শক্তভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি, জোর দিয়েছেন আরও সাহস ও আক্রমণের ধার বাড়ানোর ওপর।
ইন্টার মায়ামি ও নিউ ইংল্যান্ড—দুই দলই ২০২৬ এমএলএস প্লে-অফ নিশ্চিত করে ফেলেছে। তবে আগামী মৌসুমের কনকাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপের টিকিট পাওয়ার লড়াই থাকায় রোববারের ম্যাচটির গুরুত্ব অনেক বেশি।
ন্যাশভিল ইতিমধ্যেই সাপোর্টার্স শিল্ড নিশ্চিত করে ফেলায় বাকি টিকিটগুলোর লড়াই বেশ জমে উঠেছে। ইস্টার্ন কনফারেন্সে দ্বিতীয় স্থানে শেষ করতে পারলে ইন্টার মায়ামির জন্য এই মহাদেশীয় প্রতিযোগিতায় সরাসরি জায়গা করে নেওয়ার দারুণ সুযোগ তৈরি হবে।
