নিজস্ব প্রতিবেদক। ঢাকা, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬।
মাদকবিরোধী অভিযানে হাতে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে অংশ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। এর আগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি ভাঙার ঘটনাতেও তাঁর নাম আলোচনায় এসেছিল।
এনসিপি নেতা, রিফিউজি ইউটিউবারসহ জনপ্রিয় অনলাইন স্যাটায়ার পেইজের প্রকাশনায় দাবি করা হয়েছিল, বুলডোজার ও ক্রেন নিয়ে ওই বাড়ি ভাঙার ঘটনায় বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনও উপস্থিত ছিলেন।
ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি ভাঙার ঘটনায় ২০২৬ সালের আগস্টে আদালতে করা একটি মামলার আবেদনে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহসহ ২৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। ওই আবেদনে বুলডোজার সরবরাহকারী হিসেবে মো. মিলনের নাম ছিল।
যেভাবে ভাঙা হয়েছিল ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি
২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরে সেখানে ক্রেন, এক্সক্যাভেটরসহ ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে যাওয়া হয়। রাতভর ভবনটি ভাঙার কাজ চলে এবং পরদিনও ধ্বংসযজ্ঞ অব্যাহত থাকে।
দ্য ডেইলি স্টারের ৫ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘বুলডোজার মিছিল’ কর্মসূচির ঘোষণার পর বাড়িটির সামনে প্রথমে একটি ক্রেন এবং পরে একটি এক্সক্যাভেটর নেওয়া হয়। বিক্ষোভকারীরা ভবনে প্রবেশ করে ভাঙচুর শুরু করার পর এসব যন্ত্রপাতি আনা হয়েছিল।
ইশরাকের নাম কীভাবে আলোচনায় আসে
ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি ভাঙার ঘটনার ঘটনার পর ঐ কর্মকান্ডে সঙ্গে জড়িত অনেকের বিভিন্ন সময়ের বয়ানে এস্কেভেটর পাঠানোর জন্য ইশরাক হোসেনের কথা আসে। এমনকি ফ্রান্সে অবস্থানরত কুখ্যাত রিফিউজি এক ইউটিউবারের ভাষ্যেও ইশরাকের নাম আসে এস্কেভেটর এর যোগানদাতা হিসাবে। এছাড়াও ইশরাকের ক্রেন নিয়ে উপস্থিতির দাবি অনলাইন প্রকাশনা ‘ইয়ার্কি’র লেখায় পাওয়া যায়। সেখানে বলা হয়, মাঝরাতে বুলডোজার ও ক্রেন নিয়ে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন সেখানে যান।
মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে নতুন বিতর্ক
ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের ঘটনা নিয়ে পুরোনো অভিযোগের আলোচনা নতুন করে সামনে আসতে পারে মাদকবিরোধী অভিযানে ইশরাক হোসেনের অস্ত্র হাতে অংশগ্রহণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। ১৭ অক্টোবর রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেলস্টেশন-সংলগ্ন দয়াগঞ্জ ঘুণ্টিঘর রেলগেট এলাকায় তাঁর অংশ নেওয়া অভিযানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। ভিডিওতে তাঁকে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে কয়েকজনকে ধরার নির্দেশ দিতে দেখা যায়।
ইশরাক হোসেনের দাবি, ওই এলাকায় গুলির ঘটনা ঘটায় নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে গিয়েছিলেন। এদিকে, অভিযানে অস্ত্র হাতে অংশ নেওয়ার ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার কথা জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ।
এ ঘটনায় তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে ১৮ অক্টোবর আজকের পত্রিকা সরকারসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তবে ওই সময় পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি।
