আগামী মাসে জাপানে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এশিয়ান গেমসে ১৪টি ডিসিপ্লিনে অংশ নিতে প্রায় ১০০ জন অ্যাথলেটের একটি দল পাঠাবে উত্তর কোরিয়া। দেশটির অলিম্পিক কমিটির একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, এই সফরের মূল লক্ষ্য হচ্ছে ‘মার্শাল কিম জং উনকে আনন্দ উপহার দেওয়া’।
করোনা মহামারির সময় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা থেকে দূরে ছিল পারমাণবিক অস্ত্রধারী এই দেশটি। তবে ২০২৩ সালে চীনে অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমস এবং পরবর্তীতে প্যারিস অলিম্পিকের মাধ্যমে তারা আবার বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে ফিরে আসে।
উত্তর কোরিয়ার অলিম্পিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক কো চোল হো পিয়ংইয়ংয়ে এক সাক্ষাৎকারে জানান, জাপানের নাগোয়া ও আইচি অঞ্চলে হতে যাওয়া এই আসরে নারী ফুটবল এবং কারাতে ইভেন্টে জাপানে বসবাসরত দুজন জাতিগত কোরীয় অ্যাথলেটও অন্তর্ভুক্ত আছেন।
জাপানভিত্তিক উত্তর কোরিয়াপন্থী পত্রিকা ‘চোসন সিনবো’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমাদের প্রতিনিধিদলে ১০০ জনের বেশি খেলোয়াড় থাকবেন। তারা ছেলে ও মেয়েদের ফুটবল, ভারোত্তোলন, বক্সিং ও কুস্তিসহ মোট ১৪টি খেলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।” মঙ্গলবার এই সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয়।
তিনি আরও জানান, ২০২৩ সালের হাংচৌ এশিয়ান গেমসের তুলনায় এবার তাদের দল কিছুটা ছোট হলেও, পদক জয়ের সংখ্যা বাড়বে বলে তারা আশাবাদী। উল্লেখ্য, স্বৈরাচারী শাসনের অধীনে থাকা উত্তর কোরিয়া গত আসরে ১১টি সোনা জিতেছিল, যার অর্ধেকই এসেছিল ভারোত্তোলন থেকে।
১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত চলতে থাকা এই প্রতিযোগিতায় অ্যাথলেটদের মনোবল তুঙ্গে রয়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা। সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের জন্য জয় ছিনিয়ে আনাই তাদের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।
তিনি বলেন, “মার্শাল কিমকে সাফল্যের আনন্দ উপহার দিতে আমাদের খেলোয়াড়রা প্রতিদিন কঠোর অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন।”
সম্প্রতি জাপানের পুনরায় সামরিক শক্তি বৃদ্ধির চেষ্টার তীব্র সমালোচনা করে আসছে উত্তর কোরিয়া। ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিকভাবে প্রাক্তন ঔপনিবেশিক শাসক জাপানের সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহেই এই এশিয়ান গেমসে অংশ নিচ্ছে তারা।
