শনিবার নিউ জার্সিতে মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের উদ্বোধনী ম্যাচের আগে কার্লো আনচেলত্তি বিশ্বকাপ টাচলাইনে তাঁর প্রথম উপস্থিতিকে একটি ‘সুন্দর মুহূর্ত’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
এই ইতালীয় কোচ তাঁর বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে এসি মিলান, চেলসি, প্যারিস সাঁ-জাঁ, বায়ার্ন মিউনিখ এবং রিয়াল মাদ্রিদের মতো ক্লাবে ইতালি, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি ও স্পেনে লিগ শিরোপা জিতেছেন। ২০২৫ সালের মে মাসে ব্রাজিলের দায়িত্ব নেওয়ার পর এবারই প্রথম আন্তর্জাতিক ফুটবলে পা রাখলেন তিনি।
ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে আনচেলত্তি বলেন, ‘এটি আমার জন্য এক নতুন অভিজ্ঞতা। এর সঙ্গে অনেক দায়িত্ব জড়িয়ে আছে। ফুটবলের দেশ এবং বিশ্বের সবচেয়ে সফল জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করা এক দারুণ সম্মানের।’
রেকর্ড আরও বাড়িয়ে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে এই টুর্নামেন্টে নামছে ব্রাজিল, যাদের শেষ সাফল্য এসেছিল ২০০২ সালে। তবে সাম্প্রতিক অভিযানগুলো কেটেছে হতাশায়; সেলেসাওরা তাদের শেষ পাঁচ আসরের চারবারই সেমিফাইনালে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে।
তবুও, সর্বোচ্চ স্তরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য দলের সামর্থ্যের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখছেন আনচেলত্তি।
তিনি বলেন, ‘এটি এমন একটি দল, যা যে কারও সঙ্গে টেক্কা দিতে পারে।’ আগামী সপ্তাহে নেইমার অনুশীলনে ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমাদের টেকনিক্যাল মান ও অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং আমরা সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী যে যেকোনো দলের মুখোমুখি হতে পারব।’
‘এই বিশ্বকাপ নিয়ে আমাদের ইতিবাচক অনুভূতি রয়েছে। এই মুহূর্তে কোনো দলকে স্পষ্ট ফেভারিট বলা যাবে না। বেশ কয়েকটি দলেরই শেষ পর্যন্ত লড়াই করার সুযোগ থাকবে।’
তারকা উইঙ্গার ভিনিসিউস জুনিয়রও ব্রাজিলের সম্ভাবনার কথা জানিয়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে, ট্রফি ঘরে ফিরিয়ে আনতে পুরো দল বদ্ধপরিকর।
তিনি বলেন, ‘আমরা চ্যাম্পিয়ন হতেই এসেছি। আমরা অন্য বড় দলগুলোর সমকক্ষ। আমাদের দারুণ সব খেলোয়াড় আছে এবং গত কয়েক মাসে আমরা বেশ উন্নতি করেছি।’
‘আমরা ইতিহাস বদলে দিতে এবং ব্রাজিলকে তার যোগ্য জায়গায়—সবার ওপরে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে এখানে এসেছি। আমি টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হতে আসিনি, এসেছি ব্রাজিলকে জেতাতে সাহায্য করতে।’
পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল গ্রুপ ‘সি’-তে শীর্ষস্থান পাওয়ার লক্ষ্যে মাঠে নামবে, যেখানে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ স্কটল্যান্ড ও হাইতি।
