বিডি ডাইজেস্ট প্রতিবেদক
কক্সবাজারের উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের টাইপালং এলাকায় ফেসবুক পোস্টে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংঘর্ষে মা ছৈয়দা বেগম (৪৫) নিহতের ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে। পুলিশি হেফাজত থেকে মুক্তি পেয়ে ভুক্তভোগী সন্তান মো. ইউনুস দাবি করেছেন, স্থানীয় ছাত্রদল নেতা হাশেম সিকদার জিসানই এই সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের মূল মাস্টারমাইন্ড।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ আগে স্থানীয় টাইপালং মাদ্রাসার দেয়ালে ‘জয় বাংলা’ গ্রাফিতি লেখাকে কেন্দ্র করে এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৬ মে ২০২৬ (শনিবার) রাতে উখিয়া উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী হাশেম সিকদার জিসান এ সংক্রান্ত একটি ফেসবুক পোস্ট দেন। উক্ত পোস্টে ছাত্রলীগ কর্মী মো. ইউনুস ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
ফেসবুক রিঅ্যাক্ট ক্ষুব্ধ হয়ে ছাত্রদল নেতা জিসানের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী ইউনুসকে একটি দোকানে আটকে রেখে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। খবর পেয়ে ইউনুসের বন্ধু এনজিওকর্মী এস এম ইমরান তাকে বাঁচাতে গেলে তাকেও পেটানো হয়। একপর্যায়ে ছেলের ওপর হামলার খবর পেয়ে মা ছৈয়দা বেগম ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং নিজের শরীর দিয়ে সন্তানকে আড়াল করার চেষ্টা করেন। হামলাকারীদের বেধড়ক কিল-ঘুষি, মারধর ও ধস্তাধস্তির আঘাতে ছৈয়দা বেগম ঘটনাস্থলেই সংজ্ঞাহীন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মো. ইউনুসকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। পরবর্তীতে থানা থেকে মুক্তি পেয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ইউনুস অভিযোগ করেন, ছাত্রদল নেতা জিশান (হাশেম সিকদার জিসান) এবং তার বাবা বিএনপি নেতা মিজান সিকদারের নেতৃত্বেই এই হত্যাকাণ্ড সুপরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে। তারা রাজনৈতিক বিরোধের জেরে এই হামলা চালিয়ে আমার মাকে হত্যা করেছে।
এদিকে ঘটনার পরপরই শনিবার রাতে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা জিসান ও তার বাবা উখিয়া উপজেলা বিএনপির সদস্য মিজান সিকদার তড়িঘড়ি করে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন। তারা তাদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাদের এই ঘটনায় ফাঁসানো হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে মিজান সিকদার বলেন, নিহত নারীর গায়ে কেউ হাত তোলেনি, তাঁর স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।
অনুরূপ বক্তব্য দিয়েছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরওয়ার জাহান চৌধুরীও। তিনি দাবি করেন, ঘটনাস্থল থেকে ওই নারীর বাড়ি অনেক দূরে এবং তিনি ঘরেই অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান জানিয়েছেন, ঘটনার পর অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে টাইপালং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছিল। মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে এবং ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশি তদন্ত চলমান রয়েছে। #
