ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাওয়ার জন্য নেইমারের শেষ সুযোগটি গত রবিবার এক দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়। কুরিতিবার কাছে সান্তোসের ৩-০ গোলে হারার ম্যাচে দায়িত্বে থাকা অফিশিয়ালরা ভুল করে অন্য খেলোয়াড়ের জায়গায় তাকে মাঠ থেকে তুলে নেন।
৩৪ বছর বয়সী এই তারকাকে নাটকীয়ভাবে মাঠ থেকে বের করে দেওয়া হয়। নেইমারের অভিযোগ, চতুর্থ অফিশিয়াল বদলির নিয়মে মস্ত বড় ভুল করেছেন। সতীর্থ গনজালো এসকোবারের বদলে তার নম্বর তোলা হয়, অথচ নেইমার কেবল পায়ের পেশির চোটের কারণে সাময়িক চিকিৎসার জন্য মাঠের বাইরে গিয়েছিলেন।
চতুর্থ অফিশিয়াল যখন ১০ নম্বর লেখা বোর্ডটি উঁচিয়ে ধরেন, তখন রবিনহো জুনিয়র তার জায়গায় মাঠে নামেন।
কিন্তু নেইমার যখন আবার মাঠে ঢোকার চেষ্টা করেন, তখন রেফারি তাকে হলুদ কার্ড দেখান। এতে তিনি প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিবাদ করতে থাকেন।
রেফারি তার কোনো কথাই শুনতে চাননি। উপায় না দেখে নেইমার অফিশিয়ালদের হাত থেকে বদলির চিরকুটটি কেড়ে নেন এবং টিভির ক্যামেরার সামনে ধরেন। তিনি প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন যে এসকোবারের মাঠ থেকে বের হওয়ার কথা ছিল, তার নয়।
এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে সান্তোস ক্লাব জানায়, ‘চতুর্থ অফিশিয়াল বদলির ক্ষেত্রে ভুল করেছিলেন।’
‘টিভির ফুটেজ এবং বদলির সময় অফিশিয়ালদের লেখা চিরকুট দেখেই এটি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এটি একটি অবিশ্বাস্য ভুল, যা সংশোধন করা হয়নি।’
নেইমারের জন্য এই ঝামেলাটি একদম ভুল সময়ে এলো। কারণ ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি আজ সোমবারই বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করবেন।
এই ইতালিয়ান কোচ আগেই সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, নেইমারের দলে থাকা নির্ভর করবে তার ফিটনেস ও ফর্মের ওপর, কোনো আবেগের দাম এখানে নেই।
চলতি মরশুমে সান্তোসের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে নেইমার ছয়টি গোল করেছেন এবং চারটি গোলে সহায়তা করেছেন।
৭৯ গোল নিয়ে ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়া সত্ত্বেও, চোট আর হাঁটুর অস্ত্রোপচারের কারণে ২০২৩ সালের পর থেকে নেইমার দেশের জার্সিতে কোনো ম্যাচ খেলেননি। এই কারণে পুরো এক বছর তাকে মাঠের বাইরে কাটাতে হয়েছে।
হতাশ ও বিরক্ত এই ফরোয়ার্ড শেষ পর্যন্ত মাঠ ছেড়ে যান এবং অধিনায়কের ব্যান্ডটি সেই এসকোবারের হাতেই তুলে দেন—যার আসলে সবার আগে মাঠ থেকে উঠে যাওয়ার কথা ছিল।
